
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের আমিয়ান গ্রামে একটি মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে এই নাশকতামূলক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ মোল্লা (পিতা: ইমান মোল্লা) জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘেরের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী মাছ অস্বাভাবিকভাবে মরে ভেসে উঠতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে আব্দুল্লাহ মোল্লা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, বিষক্রিয়ায় ঘেরের রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ মরে ভেসে উঠছে। বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক একর আয়তনের ঘের জুড়ে সাদা হয়ে মরা মাছ ভেসে আছে।
ঘটনাস্থল থেকে বিষের অস্তিত্ব সম্বলিত ‘ব্যাবিলন’ নামক বিষের প্রায় ২০টি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বোতলে বিষের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি পরিকল্পিত বিষ প্রয়োগের ঘটনা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরিকল্পিত এই বিষ প্রয়োগে তাদের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আব্দুল্লাহ মোল্লার বড় ভাই এবাদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
ঘটনার খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই পলাশ কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক পলাশ কুমার সাহা জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিষ প্রয়োগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আলামত হিসেবে বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মৎস্য চাষীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 


















