1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জ ধলবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গাজী মিজানুর রহমান মনোনীত কালিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শাহাজান সরদারকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা চলল বুলডোজার বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণ, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা কালিগঞ্জে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতা আটক, ইউপি চেয়ারম্যানের তৎপরতায় পুলিশে সোপর্দ কালিগঞ্জের ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন: সভাপতি লুৎফর, সহ-সভাপতি লিটন কালিগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক জমি দখলে ‘ভেকু বাহিনীর’ তাণ্ডব: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা কালিগঞ্জে বিষপানে বৃদ্ধের আত্মহত্যা কালিগঞ্জে প্রতিবন্ধী পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ছাগল উপহার কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোশাররফ হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে

কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৭৬ বার পড়া হয়েছে
মোঃ ইশারাত আলী : 
আজ ৬ এপ্রিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ফিরে এলেও, স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে কালিগঞ্জের খেলার মাঠের সেই ধুলো ওড়ানো ৯০-এর দশক। সে এক অনন্য সময় ছিল, যখন কালিগঞ্জের আকাশ-বাতাস মুখরিত থাকতো ফুটবল আর ক্রিকেটের উন্মাদনায়। সকালে ক্রিকেটের ব্যাটে-বলে লড়াই, আর বিকেলে ফুটবল মাঠে ঘাম ঝরানো-এটাই ছিল তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের প্রাণস্পন্দন।
কঁচিকাঁচা ক্লাব ও একঝাঁক প্রতিভা :
স্মৃতির জানালায় উঁকি দিলে প্রথমেই মনে পড়ে ১৯৮৮ সালের সেই কঁচিকাঁচা ক্লাবের কথা। কালিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কারিগর ছিল এই ক্লাবটি। রিজন ভাইয়ের মতো দক্ষ নেতার অধীনে মাঠ কাঁপাতেন মোজাফ্ফারসহ আরও অনেক লড়াকু ফুটবলার। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে, যখন ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অসংখ্য ম্যাচে দলের হয়ে লড়েছি।
কালিগঞ্জের ক্রীড়া মানচিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে আরও অনেক ক্লাব। কালিগঞ্জ সদর ক্লাব, ডিএমসি ক্লাব, শ্রীকলা অনির্বাণ, পিডিকে, রতনপুর ইউনাইটেড, কুশলিয়া কচমচ ক্লাব, উত্তর কালিগঞ্জ ক্রীড়া একাডেমী থেকে শুরু করে বিটিজিআর-প্রতিটি সংগঠনের অবদান অনস্বীকার্য। মাঠের বাঁশিতে সুর তুলতেন জাকির রেফারি, আর তার সহকারী হিসেবে লাইন্সম্যানের ভূমিকায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতেন বাচ্চু দাদা। আজ যখন ব্যানারে বাচ্চু দাদাকে দেখি, তখন সেই ৯০ দশকের মাঠের দৃশ্যগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ইকবাল আলম বাবলু ফিফা ব্যাজ ধারী রেফারী, মোমনে স্যার তার সহকারী রেফারী হিসেবে আজও পতাকা হাতে লাইনে দৌড়াচ্ছেন।
কারিগর ও সংগঠকদের অবদান :
খেলোয়াড় তৈরির পেছনে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সংগঠক। ইন্টার-স্কুল পর্যায়ে বারেক স্যার ও মোবারেক স্যারের অবদান ভোলার মতো নয়। ক্লাব পর্যায়ে আব্দুল হাকিম, আহম্মদ চেয়ারম্যান, গাজী খোরশেদ আলম এবং গিয়াসউদ্দীন সাহেবদের মতো মানুষেরা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিয়েছেন। ডিকেএমএল-এর মোবারেক স্যার এখনো আমাদের মাঝে জীবিত আছেন, যা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
জাতীয় পর্যায়ের তারকা ও বর্তমান প্রত্যাশা :
কালিগঞ্জের মাটি থেকে উঠে এসেছেন খালেক ভাই, খোকন ভাই, ডাবলু ভাই, লালন দাদা, এছহাক ভাই, রউফ ভাই, করিম ভাই, ওয়াসিম দাদা, গোবিন্দ দাদা, রেজাউল, তাপস, দেবেশ দাদা, নূরুল হক, মন্টু, মোজাফ্ফার, আঙ্গুর ও লিটনের মতো দক্ষ আরও অনেক খেলোয়াড়রা। তাদের অনেকেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কালিগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করেছেন। আজ ক্রীড়া দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে যদি তারা মাঠে উপস্থিত থাকতেন, তবে সত্যিই এক অসাধারণ পরিবেশের সৃষ্টি হতো।
উপসংহার :
কালিগঞ্জের ফুটবলের যে গৌরবময় ইতিহাস, তা আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের অবদান অপরিসীম। তবে একটি আক্ষেপ থেকেই যায়-যদি আমাদের সেই সময়ের অভিজ্ঞ প্রাক্তন খেলোয়াড়রা বর্তমানের ক্রীড়া সংগঠনে আরও জোরালোভাবে অবদান রাখতেন, তবে কালিগঞ্জ থেকে আরও অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হওয়া সম্ভব হতো। আজকের ব্যানার খেলোয়ার ছাড়া বেমানান।
আজকের এই ক্রীড়া দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, মাঠের সেই সোনালী দিনগুলো আবার ফিরে আসুক, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে কালিগঞ্জের জয়গান ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র।
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জ ধলবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গাজী মিজানুর রহমান মনোনীত

কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী : 
আজ ৬ এপ্রিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ফিরে এলেও, স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে কালিগঞ্জের খেলার মাঠের সেই ধুলো ওড়ানো ৯০-এর দশক। সে এক অনন্য সময় ছিল, যখন কালিগঞ্জের আকাশ-বাতাস মুখরিত থাকতো ফুটবল আর ক্রিকেটের উন্মাদনায়। সকালে ক্রিকেটের ব্যাটে-বলে লড়াই, আর বিকেলে ফুটবল মাঠে ঘাম ঝরানো-এটাই ছিল তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের প্রাণস্পন্দন।
কঁচিকাঁচা ক্লাব ও একঝাঁক প্রতিভা :
স্মৃতির জানালায় উঁকি দিলে প্রথমেই মনে পড়ে ১৯৮৮ সালের সেই কঁচিকাঁচা ক্লাবের কথা। কালিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কারিগর ছিল এই ক্লাবটি। রিজন ভাইয়ের মতো দক্ষ নেতার অধীনে মাঠ কাঁপাতেন মোজাফ্ফারসহ আরও অনেক লড়াকু ফুটবলার। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে, যখন ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অসংখ্য ম্যাচে দলের হয়ে লড়েছি।
কালিগঞ্জের ক্রীড়া মানচিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে আরও অনেক ক্লাব। কালিগঞ্জ সদর ক্লাব, ডিএমসি ক্লাব, শ্রীকলা অনির্বাণ, পিডিকে, রতনপুর ইউনাইটেড, কুশলিয়া কচমচ ক্লাব, উত্তর কালিগঞ্জ ক্রীড়া একাডেমী থেকে শুরু করে বিটিজিআর-প্রতিটি সংগঠনের অবদান অনস্বীকার্য। মাঠের বাঁশিতে সুর তুলতেন জাকির রেফারি, আর তার সহকারী হিসেবে লাইন্সম্যানের ভূমিকায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতেন বাচ্চু দাদা। আজ যখন ব্যানারে বাচ্চু দাদাকে দেখি, তখন সেই ৯০ দশকের মাঠের দৃশ্যগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ইকবাল আলম বাবলু ফিফা ব্যাজ ধারী রেফারী, মোমনে স্যার তার সহকারী রেফারী হিসেবে আজও পতাকা হাতে লাইনে দৌড়াচ্ছেন।
কারিগর ও সংগঠকদের অবদান :
খেলোয়াড় তৈরির পেছনে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সংগঠক। ইন্টার-স্কুল পর্যায়ে বারেক স্যার ও মোবারেক স্যারের অবদান ভোলার মতো নয়। ক্লাব পর্যায়ে আব্দুল হাকিম, আহম্মদ চেয়ারম্যান, গাজী খোরশেদ আলম এবং গিয়াসউদ্দীন সাহেবদের মতো মানুষেরা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিয়েছেন। ডিকেএমএল-এর মোবারেক স্যার এখনো আমাদের মাঝে জীবিত আছেন, যা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
জাতীয় পর্যায়ের তারকা ও বর্তমান প্রত্যাশা :
কালিগঞ্জের মাটি থেকে উঠে এসেছেন খালেক ভাই, খোকন ভাই, ডাবলু ভাই, লালন দাদা, এছহাক ভাই, রউফ ভাই, করিম ভাই, ওয়াসিম দাদা, গোবিন্দ দাদা, রেজাউল, তাপস, দেবেশ দাদা, নূরুল হক, মন্টু, মোজাফ্ফার, আঙ্গুর ও লিটনের মতো দক্ষ আরও অনেক খেলোয়াড়রা। তাদের অনেকেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কালিগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করেছেন। আজ ক্রীড়া দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে যদি তারা মাঠে উপস্থিত থাকতেন, তবে সত্যিই এক অসাধারণ পরিবেশের সৃষ্টি হতো।
উপসংহার :
কালিগঞ্জের ফুটবলের যে গৌরবময় ইতিহাস, তা আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের অবদান অপরিসীম। তবে একটি আক্ষেপ থেকেই যায়-যদি আমাদের সেই সময়ের অভিজ্ঞ প্রাক্তন খেলোয়াড়রা বর্তমানের ক্রীড়া সংগঠনে আরও জোরালোভাবে অবদান রাখতেন, তবে কালিগঞ্জ থেকে আরও অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হওয়া সম্ভব হতো। আজকের ব্যানার খেলোয়ার ছাড়া বেমানান।
আজকের এই ক্রীড়া দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, মাঠের সেই সোনালী দিনগুলো আবার ফিরে আসুক, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে কালিগঞ্জের জয়গান ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র।