শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে নির্মিত উপকূল রক্ষা বাঁধে (১৫ নং পোল্ডার) চলছে অশুভ খেলা। সরকারি বাঁধের ব্লক সরিয়ে এবং বাঁধ কেটে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে লবণ পানির পাইপলাইন বা ‘নাইনটি’ স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের এমন কর্মকাণ্ডে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টেকসই বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানে গিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনকের নেতৃত্বে গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাদনীমুখা ও ৯ নং সোরা এলাকায় একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বাঁধের ভেতর থেকে প্রায় ১২টি অবৈধ নাইনটি অপসারণ করা হয়। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপকূলের বাঁধ সুরক্ষার চেয়ে গুটিকতক প্রভাবশালীর চিংড়িঘেরে লবণ পানি সরবরাহ করাটাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালীদের একটি চক্র নিয়মিতভাবে নদীর তীরবর্তী বাঁধের উপরিভাগের ব্লক সরিয়ে এবং বাঁধের গভীর পর্যন্ত গর্ত করে পাইপ স্থাপন করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এই নাইনটিগুলো স্থাপনের ফলে বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানির চাপে বাঁধে বড় ধরনের ফাটল ও ধসের ঝুঁকি বাড়ছে, যা গাবুরার হাজার হাজার মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার জানান, গাবুরার চারপাশের পোল্ডার পুনর্বাসনে সরকার এক হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এটি বর্তমান সরকারের একটি মেগা প্রকল্প। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে বাঁধের ক্ষতি করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার স্থানীয়দের নিষেধ করেছি, বাঁধের ক্ষতির বিষয়টি অবগত করেছি। এমনকি নিজে থেকে নাইনটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা কর্ণপাত করেনি। বাধ্য হয়ে আমরা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছি।’
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক বলেন, ‘উপকূলের প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদ থাকে, সেজন্য এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। কিছু ব্যক্তি নিজেদের চিংড়িঘেরের সুবিধার জন্য সরকারি সম্পদ ধ্বংস করে বাঁধের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ১০টিরও বেশি নাইনটি অপসারণ করা হয়েছে। আমরা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, এটিই শেষ নয়। এরপর যদি কেউ বাঁধের কোনো প্রকার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপকূলীয় এলাকাবাসী প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, শুধুমাত্র উচ্ছেদই কি যথেষ্ট? যারা সরকারি এই বিশাল প্রকল্পের ক্ষতি সাধন করেছে, তাদের চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় না আনলে আবারও এই অশুভ চক্র সক্রিয় হতে পারে।
প্রতিনিধির নাম 
















