1. tusu0x1@gmail.com : :
  2. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ। কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ.ম মমতাজুর রহমানের ইন্তেকাল কালিগঞ্জে নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় : মাদক-সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা কালিগঞ্জের রেবতী সরকারের তাজা প্রাণ ঝরে গেল কোলকাতার অগ্নিকাণ্ডে কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফুর মৃত্যু কলকাতায় হোটেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে কালিগঞ্জের সাবেক আওয়ামী নেতা আলিমুজ্জামানের মৃত্যু- রেবতী সরকারের ঠিকানা পাওয়া যায়নি জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাতক্ষীরা পৌরসভাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে কালিগঞ্জ ‘খরচ বাড়ে, ভাড়া কমে’-কালিগঞ্জে ডেকোরেটর ব্যবসায় টিকে থাকার লড়াই, ‘ঐক্যবদ্ধ না হলে ডেকোরেটর ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন’-হেদায়েতুল ইসলাম কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কালিগঞ্জে বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল নিক্ষেপ: আহত ১, অবিস্ফোরিত দুটি বোমা উদ্ধার

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:২৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১১৬৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী : 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেন্টাগনের সাবেক বাজেট কর্মকর্তা এলেইন ম্যাককাস্কারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রাথমিক তিন সপ্তাহেই মার্কিন কোষাগারের ওপর বিলিয়ন ডলারের বোঝা চেপেছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির নির্ভুলতা (precision) এই সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানত ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর রাডার ব্যবস্থা ইরানের ‘কামিকাজে’ ড্রোনের প্রধান লক্ষ্য ছিল। বিশেষ করে AN/TPY-2 এর মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাডার ব্যবস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হ্যাঙ্গারে থাকা অবস্থায় বেশ কিছু যুদ্ধবিমান (F-15 ও F-16 এর উন্নত সংস্করণ) এবং নজরদারি ড্রোন (MQ-9 Reaper) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়েছে।

কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে কাতারি মালিকানাধীন রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই সংঘাতের আর্থিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলেইন ম্যাককাস্কারের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই ব্যয়ের মূল কারণগুলোর অন্যতম সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, ধ্বংস হওয়া রাডার ও ড্রোণ পুনরায় কেনা, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও অবকাঠামো মেরামত, প্রতিবার ড্রোন ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (যেমন: Patriot) ক্রয়। একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল নিক্ষেপ করতে খরচ হয় প্রায় ২-৪ মিলিয়ন ডলার, অথচ ইরান যে ড্রোনগুলো ব্যবহার করে সেগুলোর একেকটির উৎপাদন খরচ মাত্র ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার। এই “অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ” (Asymmetric Warfare) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তাছাড়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিজেদের গুলিতেই নিজেদের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় (High Alert) দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে রাডার সিগন্যাল শনাক্তকরণে ভুলের কারণে এই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটে থাকে, যা ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় একটি বড় অংশ জুড়ে আছে।

এই বিশাল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি কেবল পেন্টাগনের বাজেটেই প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। উচ্চমূল্যের সম্পদ রক্ষায় এখন অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে, যা পরিচালনার খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে ঠেকরায় চলাচলের পথ কেটে মাটি পুকু‌রে ফেলার অভিযোগ।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৮:০৫:২৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী : 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেন্টাগনের সাবেক বাজেট কর্মকর্তা এলেইন ম্যাককাস্কারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রাথমিক তিন সপ্তাহেই মার্কিন কোষাগারের ওপর বিলিয়ন ডলারের বোঝা চেপেছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির নির্ভুলতা (precision) এই সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানত ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর রাডার ব্যবস্থা ইরানের ‘কামিকাজে’ ড্রোনের প্রধান লক্ষ্য ছিল। বিশেষ করে AN/TPY-2 এর মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাডার ব্যবস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হ্যাঙ্গারে থাকা অবস্থায় বেশ কিছু যুদ্ধবিমান (F-15 ও F-16 এর উন্নত সংস্করণ) এবং নজরদারি ড্রোন (MQ-9 Reaper) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়েছে।

কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে কাতারি মালিকানাধীন রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই সংঘাতের আর্থিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলেইন ম্যাককাস্কারের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই ব্যয়ের মূল কারণগুলোর অন্যতম সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, ধ্বংস হওয়া রাডার ও ড্রোণ পুনরায় কেনা, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও অবকাঠামো মেরামত, প্রতিবার ড্রোন ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (যেমন: Patriot) ক্রয়। একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল নিক্ষেপ করতে খরচ হয় প্রায় ২-৪ মিলিয়ন ডলার, অথচ ইরান যে ড্রোনগুলো ব্যবহার করে সেগুলোর একেকটির উৎপাদন খরচ মাত্র ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার। এই “অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ” (Asymmetric Warfare) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তাছাড়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিজেদের গুলিতেই নিজেদের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় (High Alert) দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে রাডার সিগন্যাল শনাক্তকরণে ভুলের কারণে এই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটে থাকে, যা ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় একটি বড় অংশ জুড়ে আছে।

এই বিশাল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি কেবল পেন্টাগনের বাজেটেই প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। উচ্চমূল্যের সম্পদ রক্ষায় এখন অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে, যা পরিচালনার খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।