
মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের তেলীখালী মৌজায় প্রায় ১৯ বিঘা (৬.৩০ একর) আয়তনের একটি মৎস্য ঘেরের মালিকানা ও দখল নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একদিকে বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান মালিকেরা; অন্যদিকে একই জমি নিয়ে একাধিক দেওয়ানী মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভূমি প্রশাসন ও আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার তেলীখালী মৌজার জে.এল নং-১৩৯, সিএস খতিয়ান নং-১৪২, এসএ খতিয়ান নং-৫২৭, এসএ দাগ নং-৬৪৭, বিএস খতিয়ান নং-৭৮৯, ৭২৫, ৭৯৬ ও ১৪৮০ এবং বিআরএস দাগ নং-১৩৬৫-এর আওতাধীন মোট ৭.৯২ একর জমির মধ্যে ২০২২ সালে বৈধভাবে ৬.৩ একর জমি ক্রয় করেন মোছাঃ সালমা বেগম, মোঃ আবু জাফর গাজী, গোলাম রব্বানী, মোঃ মোহর আলী গাজী ও মোঃ আসাদুর রহমান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা জমি ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষাবাদ ও ভোগদখলে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল কথিত সৃজনশীল (ভুয়া) কাগজপত্র তৈরি করে, ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই বিশাল মৎস্য ঘেরটি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, পীর গাজন গ্রামের মৃত সোলায়মান গাজীর ছেলে ও কার্টুনিয়া রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব গং এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বৈধ সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা।
এদিকে একই জমি নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের বিষয়টি সামনে এনে কালিগঞ্জ উপজেলার সাতহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম রব্বানী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দেওয়ানী মামলা নং-৩৪৪/২২-এর ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়ে তিনি তপশিলবর্ণিত সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। তবে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ মো. আব্দুল ওহাব গাজী ২০২৩ সালের ২২ মে কালিগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা (নং-১৬৪/২৩) দায়ের করেন। পরবর্তীতে রহিমা খাতুন নামের আরেকজন একই ডিক্রির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে ডিক্রি রদের মামলা (নং-৩৬৪/২৪) দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
“একই জমি নিয়ে আদালতে দুটি মামলা চলমান। এই অবস্থায় যদি সংশ্লিষ্ট জমির ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর বা মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, তবে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা আরও প্রকট হবে। তাই আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নামজারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার জন্য আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাচ্ছি।”
জানা গেছে, নামজারি ও হস্তান্তর স্থগিতের এই আবেদনপত্রের অনুলিপি ইতিমিধ্যেই কালিগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং ১১নং রতনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে মামলার জটিলতা ও বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই জমি বিরোধের কারণে এলাকায় এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত আইনি নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।
প্রতিনিধির নাম 
















