
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মরহুম আলহাজ্ব জি.এম. সুরত আলীর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজ শেষে মরহুমের পরিবারের পক্ষে তার বড় ছেলে, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের কদমতলা পীরগাজন দিঘীরপাড় জামে মসজিদ ও মরহুমের নিজ বাসভবনে যুগপৎভাবে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিলে কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন গুনাকরকাটি খায়রিয়া আজিজিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা রবিউল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পীরগাজন দিঘীরপাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সবুর, হাফেজ আবুল হাসান ও সাবেক খতিব মাওলানা মজিবুর রহমানসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আলহাজ্ব জি.এম. সুরত আলী ছিলেন একজন জননন্দিত জনপ্রতিনিধি ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তিনি ১৯৮২ সালে রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ১৯৯২ সালে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এলাকায় শিক্ষা বিস্তার ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি কদমতলা সুরত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তিনি জাতীয় ধারাভাষ্যকার ও শিক্ষক ইসমাইল হোসেন মিলনের নানা।
জীবদ্দশায় আখিরাতের প্রস্তুতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব। প্রথম সহধর্মিণীর মৃত্যুর পর তার কবরের পাশেই নিজের কবরের স্থান নির্ধারণ ও তা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন তিনি।
গত ২৭ মে ২০২৬ (ঈদুল আজহার আগের দিন) শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, পাঁচ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরবর্তীতে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী রতনপুর ইউনিয়নের পীরগাজন দিঘির দক্ষিণপাড় গ্রামে তারই প্রতিষ্ঠিত ‘পীরগাজন ক্ষ্যান্ত বিবি-রহিমা খাতুন হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’ সংলগ্ন এলাকায় প্রথম স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, মরহুম আলহাজ্ব জি.এম. সুরত আলী ছিলেন একজন সৎ, মানবিক ও দূরদর্শী নেতা। শিক্ষা বিস্তার, জনকল্যাণ এবং মানবসেবায় তার অবদান কালিগঞ্জবাসী চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
প্রতিনিধির নাম 








