1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শাহাজান সরদারকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা চলল বুলডোজার বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণ, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা কালিগঞ্জে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতা আটক, ইউপি চেয়ারম্যানের তৎপরতায় পুলিশে সোপর্দ কালিগঞ্জের ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন: সভাপতি লুৎফর, সহ-সভাপতি লিটন কালিগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক জমি দখলে ‘ভেকু বাহিনীর’ তাণ্ডব: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা কালিগঞ্জে বিষপানে বৃদ্ধের আত্মহত্যা কালিগঞ্জে প্রতিবন্ধী পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ছাগল উপহার কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোশাররফ হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত : যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:২৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ১০৬৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী : 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেন্টাগনের সাবেক বাজেট কর্মকর্তা এলেইন ম্যাককাস্কারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রাথমিক তিন সপ্তাহেই মার্কিন কোষাগারের ওপর বিলিয়ন ডলারের বোঝা চেপেছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির নির্ভুলতা (precision) এই সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানত ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর রাডার ব্যবস্থা ইরানের ‘কামিকাজে’ ড্রোনের প্রধান লক্ষ্য ছিল। বিশেষ করে AN/TPY-2 এর মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাডার ব্যবস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হ্যাঙ্গারে থাকা অবস্থায় বেশ কিছু যুদ্ধবিমান (F-15 ও F-16 এর উন্নত সংস্করণ) এবং নজরদারি ড্রোন (MQ-9 Reaper) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়েছে।

কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে কাতারি মালিকানাধীন রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই সংঘাতের আর্থিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলেইন ম্যাককাস্কারের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই ব্যয়ের মূল কারণগুলোর অন্যতম সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, ধ্বংস হওয়া রাডার ও ড্রোণ পুনরায় কেনা, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও অবকাঠামো মেরামত, প্রতিবার ড্রোন ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (যেমন: Patriot) ক্রয়। একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল নিক্ষেপ করতে খরচ হয় প্রায় ২-৪ মিলিয়ন ডলার, অথচ ইরান যে ড্রোনগুলো ব্যবহার করে সেগুলোর একেকটির উৎপাদন খরচ মাত্র ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার। এই “অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ” (Asymmetric Warfare) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তাছাড়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিজেদের গুলিতেই নিজেদের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় (High Alert) দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে রাডার সিগন্যাল শনাক্তকরণে ভুলের কারণে এই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটে থাকে, যা ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় একটি বড় অংশ জুড়ে আছে।

এই বিশাল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি কেবল পেন্টাগনের বাজেটেই প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। উচ্চমূল্যের সম্পদ রক্ষায় এখন অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে, যা পরিচালনার খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শাহাজান সরদারকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৮:০৫:২৬ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী : 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেন্টাগনের সাবেক বাজেট কর্মকর্তা এলেইন ম্যাককাস্কারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই যুদ্ধের প্রাথমিক তিন সপ্তাহেই মার্কিন কোষাগারের ওপর বিলিয়ন ডলারের বোঝা চেপেছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির নির্ভুলতা (precision) এই সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানত ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর রাডার ব্যবস্থা ইরানের ‘কামিকাজে’ ড্রোনের প্রধান লক্ষ্য ছিল। বিশেষ করে AN/TPY-2 এর মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাডার ব্যবস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হ্যাঙ্গারে থাকা অবস্থায় বেশ কিছু যুদ্ধবিমান (F-15 ও F-16 এর উন্নত সংস্করণ) এবং নজরদারি ড্রোন (MQ-9 Reaper) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়েছে।

কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে কাতারি মালিকানাধীন রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই সংঘাতের আর্থিক বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এলেইন ম্যাককাস্কারের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই ব্যয়ের মূল কারণগুলোর অন্যতম সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, ধ্বংস হওয়া রাডার ও ড্রোণ পুনরায় কেনা, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বিমান ও অবকাঠামো মেরামত, প্রতিবার ড্রোন ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (যেমন: Patriot) ক্রয়। একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল নিক্ষেপ করতে খরচ হয় প্রায় ২-৪ মিলিয়ন ডলার, অথচ ইরান যে ড্রোনগুলো ব্যবহার করে সেগুলোর একেকটির উৎপাদন খরচ মাত্র ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার। এই “অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ” (Asymmetric Warfare) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তাছাড়া তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নিজেদের গুলিতেই নিজেদের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় (High Alert) দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে রাডার সিগন্যাল শনাক্তকরণে ভুলের কারণে এই ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটে থাকে, যা ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় একটি বড় অংশ জুড়ে আছে।

এই বিশাল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি কেবল পেন্টাগনের বাজেটেই প্রভাব ফেলছে না, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। উচ্চমূল্যের সম্পদ রক্ষায় এখন অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে, যা পরিচালনার খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।