1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্বকাপের জ্বরে কাঁপছে গোবিন্দপুর : কালিগঞ্জে মোড়ে মোড়ে ফুটবল প্রেমীদের উৎসবের জোয়ার স্মৃতির পটে চিত্রনায়িকা দিতি: এক সোনালী অধ্যায়ের মায়াবী প্রতিচ্ছবি বিদেশ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৬.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তন সম্পাদকীয় : সাংবাদিকতার সংকট ও নিরপেক্ষতার দায়বদ্ধতা কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মাদকাটি বিলে আগামীকাল শনিবার ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শেখ সিরাজুল ইসলাম: আজ শুক্রবার হোগলা মসজিদে মুসল্লিদের সাথে মতবিনিময় করবেন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে রফিকুল চৌধুরী: এক নিঃস্বার্থ মহীরুহের পদতলে আমার গর্বের পৃথিবী কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কালিগঞ্জ প্রচণ্ড শীত জেঁকে বসেছে, খেজুরের রস, গুড় পিঠা ঘিরে

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০২:৪৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৬৭ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় জেঁকে বসেছে প্রচণ্ড শীত। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম। শীত এলেই এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও লোকজ সংস্কৃতিতে প্রাণ ফেরে খেজুরের রস, গুড় ও পিঠাকে ঘিরে।

উপজেলার নলতা, ভাড়াশিমলা, কুশলিয়া, বিষ্ণুপুর, দক্ষিণশ্রীপুর, মৌতলা, কৃষ্ণনগর, মথুরেশপুর, ধলবাড়িয়া, তারালী, চাম্পাফুল ও রতনপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ভোরের আগেই গাছিরা খেজুরগাছে উঠে হাঁড়ি নামান। রাতভর গাছে ঝরতে থাকা কাঁচা রসে ভরে ওঠে মাটির কলসি। সূর্য ওঠার আগেই সেই রস সংগ্রহ করে শুরু হয় গুড় তৈরির কাজ।

স্থানীয় গাছি রবিউল ইসলাম জানান, শীত যত বেশি হয়, রস তত মিষ্টি হয়। তবে কুয়াশা বেশি থাকলে কাজ করতে কষ্ট হয়। এই কয়েক মাসের আয়েই অনেক গাছির সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

সংগৃহীত কাঁচা রস গ্রামের বাড়ির উঠোন কিংবা খোলা মাঠে বড় কড়াইয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর রস ঘন হয়ে তৈরি হয় ঝরঝরে ও পাটালি গুড়। কালিগঞ্জের খাঁটি গুড়ের চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও এই গুড় যাচ্ছে সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

কালিগঞ্জ বাজারে গুড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “এই সময়ে গুড়ই আমাদের প্রধান পণ্য। ভালো মানের গুড় পাইকাররা আগেই বুকিং দিয়ে নিয়ে যায়।”

শীতের এই মৌসুমে গ্রামগুলোতে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। ভাপা পিঠা, চিতই, পুলি, দুধ চিতইসহ নানা ধরনের পিঠায় ব্যবহার হচ্ছে খেজুরের গুড়। অনেক নারী গৃহস্থালির পাশাপাশি পিঠা বানিয়ে স্থানীয় বাজার ও রাস্তার ধারে বিক্রি করছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কয়েক হাজার খেজুরগাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে শীতকালীন সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রস ও গুড় উৎপাদিত হয়। এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু পরিবার জড়িত।

তবে ঐতিহ্যবাহী এই পেশা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। গাছির সংখ্যা কমে যাওয়া, তরুণদের অনাগ্রহ এবং সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সুবিধার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও শীত এলেই কালিগঞ্জে খেজুরের রস ও গুড়কে ঘিরে যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়, তা এখনও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই কালিগঞ্জের মানুষ খেজুরের রস, পিঠা ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কুয়াশামাখা ভোরে গাছিদের ব্যস্ততা আর সন্ধ্যায় পিঠার আড্ডা মিলিয়ে শীতকাল এখানে শুধু ঋতু নয়, এক জীবন্ত সংস্কৃতি।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের জ্বরে কাঁপছে গোবিন্দপুর : কালিগঞ্জে মোড়ে মোড়ে ফুটবল প্রেমীদের উৎসবের জোয়ার

কালিগঞ্জ প্রচণ্ড শীত জেঁকে বসেছে, খেজুরের রস, গুড় পিঠা ঘিরে

আপডেট সময় : ০৭:০২:৪৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় জেঁকে বসেছে প্রচণ্ড শীত। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম। শীত এলেই এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও লোকজ সংস্কৃতিতে প্রাণ ফেরে খেজুরের রস, গুড় ও পিঠাকে ঘিরে।

উপজেলার নলতা, ভাড়াশিমলা, কুশলিয়া, বিষ্ণুপুর, দক্ষিণশ্রীপুর, মৌতলা, কৃষ্ণনগর, মথুরেশপুর, ধলবাড়িয়া, তারালী, চাম্পাফুল ও রতনপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ভোরের আগেই গাছিরা খেজুরগাছে উঠে হাঁড়ি নামান। রাতভর গাছে ঝরতে থাকা কাঁচা রসে ভরে ওঠে মাটির কলসি। সূর্য ওঠার আগেই সেই রস সংগ্রহ করে শুরু হয় গুড় তৈরির কাজ।

স্থানীয় গাছি রবিউল ইসলাম জানান, শীত যত বেশি হয়, রস তত মিষ্টি হয়। তবে কুয়াশা বেশি থাকলে কাজ করতে কষ্ট হয়। এই কয়েক মাসের আয়েই অনেক গাছির সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

সংগৃহীত কাঁচা রস গ্রামের বাড়ির উঠোন কিংবা খোলা মাঠে বড় কড়াইয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর রস ঘন হয়ে তৈরি হয় ঝরঝরে ও পাটালি গুড়। কালিগঞ্জের খাঁটি গুড়ের চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও এই গুড় যাচ্ছে সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

কালিগঞ্জ বাজারে গুড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “এই সময়ে গুড়ই আমাদের প্রধান পণ্য। ভালো মানের গুড় পাইকাররা আগেই বুকিং দিয়ে নিয়ে যায়।”

শীতের এই মৌসুমে গ্রামগুলোতে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। ভাপা পিঠা, চিতই, পুলি, দুধ চিতইসহ নানা ধরনের পিঠায় ব্যবহার হচ্ছে খেজুরের গুড়। অনেক নারী গৃহস্থালির পাশাপাশি পিঠা বানিয়ে স্থানীয় বাজার ও রাস্তার ধারে বিক্রি করছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কয়েক হাজার খেজুরগাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে শীতকালীন সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রস ও গুড় উৎপাদিত হয়। এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু পরিবার জড়িত।

তবে ঐতিহ্যবাহী এই পেশা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। গাছির সংখ্যা কমে যাওয়া, তরুণদের অনাগ্রহ এবং সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সুবিধার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও শীত এলেই কালিগঞ্জে খেজুরের রস ও গুড়কে ঘিরে যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়, তা এখনও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই কালিগঞ্জের মানুষ খেজুরের রস, পিঠা ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কুয়াশামাখা ভোরে গাছিদের ব্যস্ততা আর সন্ধ্যায় পিঠার আড্ডা মিলিয়ে শীতকাল এখানে শুধু ঋতু নয়, এক জীবন্ত সংস্কৃতি।