1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ১১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জের দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন টিসিবি ডিলার পয়েন্টে সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলায় পরিকল্পিত চক্রান্ত: সরকারি কলোনি উচ্ছেদের বর্বরোচিত পায়তারায় দিশেহারা অসহায় পরিবারগুলো সম্পাদকীয়: রাজনীতির অন্ধ আবেগ, হঠকারী সিদ্ধান্ত ও পরিণতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপির ভাইরাল পোস্ট: ‘তেলাপোকারা জিতেছে, গণতন্ত্র জিতেছে’ কালিগঞ্জে রাতভর বৃষ্টিতে শ্রাবণের জলাবদ্ধতা: ডুবছে ফসল, ভেসে যাচ্ছে মাছের ঘের, দ্বিগুণ সবজির দাম রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিলেন মো. সাহাবুদ্দিন কালিগঞ্জের ঈদগাহ মোড় থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জোরালো দাবি কালিগঞ্জে মিটারের তার টান দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু কালিগঞ্জে বাল্যবিবাহ, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে পাউবোর জমিতে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ: জলাশয় ইজারার চেষ্টা

কালিগঞ্জে খোলা তেলের বাজারে ‘আগুন’: লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা হাঁকাচ্ছে সিন্ডিকেট!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ১২০৫ বার পড়া হয়েছে

এসএম শাহাদাত, কালিগঞ্জ থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একটি সংঘবদ্ধ কালোবাজারি চক্র। নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বর্তমানে এই বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘হাবি’ নামক একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কোনো লুকোছাপা ছাড়াই এই অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ খুচরা মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে এখানে তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত সতর্ক; তারা অপরিচিত কাউকে তেল না দিয়ে কেবল পরিচিতদের কাছেই উচ্চমূল্যে পণ্যটি সরবরাহ করছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এই তেলের উৎস নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে বড় বড় ড্রামে ভরে তেল আনা হয়। এরপর ফতেপুর এলাকার একটি নির্জন বাগানবাড়িতে সেই তেল মজুত করা হয়। চাহিদা বাড়লে সেখান থেকে ছোট ছোট কন্টেইনারে করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে এই চক্র।

খোলা অবস্থায় জনাকীর্ণ বাজারে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। এছাড়া এভাবে তেল কেনাবেচায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিকেও একই বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কালোবাজারি চক্রের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ তেলের আস্তানা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জের দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন টিসিবি ডিলার পয়েন্টে সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে

কালিগঞ্জে খোলা তেলের বাজারে ‘আগুন’: লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা হাঁকাচ্ছে সিন্ডিকেট!

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

এসএম শাহাদাত, কালিগঞ্জ থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একটি সংঘবদ্ধ কালোবাজারি চক্র। নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বর্তমানে এই বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘হাবি’ নামক একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কোনো লুকোছাপা ছাড়াই এই অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ খুচরা মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে এখানে তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত সতর্ক; তারা অপরিচিত কাউকে তেল না দিয়ে কেবল পরিচিতদের কাছেই উচ্চমূল্যে পণ্যটি সরবরাহ করছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এই তেলের উৎস নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে বড় বড় ড্রামে ভরে তেল আনা হয়। এরপর ফতেপুর এলাকার একটি নির্জন বাগানবাড়িতে সেই তেল মজুত করা হয়। চাহিদা বাড়লে সেখান থেকে ছোট ছোট কন্টেইনারে করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে এই চক্র।

খোলা অবস্থায় জনাকীর্ণ বাজারে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। এছাড়া এভাবে তেল কেনাবেচায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিকেও একই বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কালোবাজারি চক্রের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ তেলের আস্তানা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।