1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জ ধলবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গাজী মিজানুর রহমান মনোনীত কালিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. শাহাজান সরদারকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা চলল বুলডোজার বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণ, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা কালিগঞ্জে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ বিক্রেতা ও ক্রেতা আটক, ইউপি চেয়ারম্যানের তৎপরতায় পুলিশে সোপর্দ কালিগঞ্জের ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন: সভাপতি লুৎফর, সহ-সভাপতি লিটন কালিগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক জমি দখলে ‘ভেকু বাহিনীর’ তাণ্ডব: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা কালিগঞ্জে বিষপানে বৃদ্ধের আত্মহত্যা কালিগঞ্জে প্রতিবন্ধী পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ছাগল উপহার কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোশাররফ হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে

কালিগঞ্জে খোলা তেলের বাজারে ‘আগুন’: লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা হাঁকাচ্ছে সিন্ডিকেট!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ১১৬৮ বার পড়া হয়েছে

এসএম শাহাদাত, কালিগঞ্জ থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একটি সংঘবদ্ধ কালোবাজারি চক্র। নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বর্তমানে এই বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘হাবি’ নামক একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কোনো লুকোছাপা ছাড়াই এই অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ খুচরা মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে এখানে তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত সতর্ক; তারা অপরিচিত কাউকে তেল না দিয়ে কেবল পরিচিতদের কাছেই উচ্চমূল্যে পণ্যটি সরবরাহ করছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এই তেলের উৎস নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে বড় বড় ড্রামে ভরে তেল আনা হয়। এরপর ফতেপুর এলাকার একটি নির্জন বাগানবাড়িতে সেই তেল মজুত করা হয়। চাহিদা বাড়লে সেখান থেকে ছোট ছোট কন্টেইনারে করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে এই চক্র।

খোলা অবস্থায় জনাকীর্ণ বাজারে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। এছাড়া এভাবে তেল কেনাবেচায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিকেও একই বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কালোবাজারি চক্রের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ তেলের আস্তানা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জ ধলবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গাজী মিজানুর রহমান মনোনীত

কালিগঞ্জে খোলা তেলের বাজারে ‘আগুন’: লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা হাঁকাচ্ছে সিন্ডিকেট!

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

এসএম শাহাদাত, কালিগঞ্জ থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একটি সংঘবদ্ধ কালোবাজারি চক্র। নির্ধারিত ফিলিং স্টেশন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। বর্তমানে এই বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘হাবি’ নামক একটি মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে কোনো লুকোছাপা ছাড়াই এই অবৈধ কারবার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ খুচরা মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে এখানে তেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত সতর্ক; তারা অপরিচিত কাউকে তেল না দিয়ে কেবল পরিচিতদের কাছেই উচ্চমূল্যে পণ্যটি সরবরাহ করছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এই তেলের উৎস নিয়ে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিদিন রাতের আঁধারে মোটরসাইকেলে করে বড় বড় ড্রামে ভরে তেল আনা হয়। এরপর ফতেপুর এলাকার একটি নির্জন বাগানবাড়িতে সেই তেল মজুত করা হয়। চাহিদা বাড়লে সেখান থেকে ছোট ছোট কন্টেইনারে করে বাজারে এনে চড়া দামে বিক্রি করে এই চক্র।

খোলা অবস্থায় জনাকীর্ণ বাজারে এভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত ও বিক্রি যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হতে পারে। এছাড়া এভাবে তেল কেনাবেচায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দিকেও একই বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই নীরবতাকে কালোবাজারি চক্রের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ তেলের আস্তানা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।