কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজের অভিযোগ

শিমুল হোসেন কালিগঞ্জ :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ২নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জয়পত্রকাটি মৌজায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক পক্ষ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে,এমন অভিযোগ উঠেছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় জারি করা আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নালিশী জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার বিবাদী পক্ষ। রবিবার (১৮ জানুয়ারি -২০২৬) সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নির্মাণকাজের আলামত দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
মামলার বিবাদীদের অভিযোগ,আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলার বাদী সন্ন্যাসী মন্ডল প্রশাসনের অগোচরে নালিশী জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়ে মামলার বিবাদী ও একই গ্রামের বিলাত সরদারের ছেলে মো. আবু ইউছুপ মাস্টার বলেন, “আমরা আদালতের আদেশের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে কোনো কার্যক্রম চালাচ্ছি না। কিন্তু মামলার বাদী নিজেই আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় দায়েরকৃত ৪ পি মামলা নং-২১২২/২৫ (কালিগঞ্জ)-এ গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত,সাতক্ষীরা উভয় পক্ষকে নালিশী জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি তদারকি ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, নালিশী জমিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নালিশী জমির বিবরণ অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানাধীন জয়পত্রকাটি মৌজার জে.এল নং-২২০, এস.এ খতিয়ান নং-২০৮, এস.এ দাগ নং-৯৪ এবং হাল দাগ নং-৭৯-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ৪৮ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সন্ন্যাসী মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জায়গায় ঘর নির্মাণ করছি। এতে কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন করা হয়নি। এদিকে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জুয়েল হাসান বলেন” আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।এ ঘটনায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মামলাটির পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ এপ্রিল ২০২৬।









