1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ ট্রাম্পের চরমসীমার মুখে পাকিস্তান-প্রণীত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জ্বালানী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত একটি প্রস্তুতি থাকতে হবে কালিগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার : জনমনে আতঙ্ক, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে প্রক্ষেপক হামলা: নিহত ১ সাতক্ষীরার তিন উপজেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা: জনজীবন ও কৃষিতে বিশেষ নির্দেশনা কালিগঞ্জে কলেজ অধ্যক্ষ ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত-নিয়োগ বাণিজ্যর অবসান মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: চীন কি হবে নতুন ‘গ্যারান্টর’? দুবাইয়ে হামলায় ৪ এশীয় নাগরিক আহত লেবাননে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত, ইসফাহানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় নিলেন খালেদা জিয়া

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬০৬ বার পড়া হয়েছে

নিজেস্ব প্রতিনিধি :

অকৃত্রিম ভালোবাসা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কোটি মানুষের ভালোবাসা সঙ্গী করে তিনি পাড়ি জমালেন অসীম অনন্তলোকে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় অংশ নিতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। জানাজায় অংশ নেওয়া অসংখ্য মানুষ আবেগে ভেঙে পড়েন। কেউ হাউমাউ করে কেঁদেছেন, কেউবা নীরবে চোখের পানি মুছেছেন। শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান তারা।

এদিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের পুরো এলাকা মানুষের ভিড়ে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ জানাজার নামাজ আদায় করেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে অনেককে দূরের সড়কেই অবস্থান নিতে দেখা যায়।

বেলা তিনটার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

এর আগে দুপুর ১২টার পর জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। পরে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার কফিন জানাজার স্থানে আনা হয়। জানাজা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়া এই আপসহীন নেত্রী ৪১ বছর বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বহুবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে তাকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কখনো দেশ ছাড়েননি তিনি।

জানাজার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে। দাফনকাজে পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি ও বিএনপির মনোনীত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। দাফনকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিয়া উদ্যানে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় উপস্থিত হন।

একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, আপসহীন রাজনৈতিক নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিরপ্রস্থানে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে পুরো জাতি।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ

লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় নিলেন খালেদা জিয়া

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজেস্ব প্রতিনিধি :

অকৃত্রিম ভালোবাসা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কোটি মানুষের ভালোবাসা সঙ্গী করে তিনি পাড়ি জমালেন অসীম অনন্তলোকে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় অংশ নিতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। জানাজায় অংশ নেওয়া অসংখ্য মানুষ আবেগে ভেঙে পড়েন। কেউ হাউমাউ করে কেঁদেছেন, কেউবা নীরবে চোখের পানি মুছেছেন। শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান তারা।

এদিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের পুরো এলাকা মানুষের ভিড়ে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ জানাজার নামাজ আদায় করেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে অনেককে দূরের সড়কেই অবস্থান নিতে দেখা যায়।

বেলা তিনটার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

এর আগে দুপুর ১২টার পর জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। পরে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার কফিন জানাজার স্থানে আনা হয়। জানাজা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়া এই আপসহীন নেত্রী ৪১ বছর বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বহুবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে তাকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কখনো দেশ ছাড়েননি তিনি।

জানাজার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে। দাফনকাজে পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি ও বিএনপির মনোনীত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। দাফনকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিয়া উদ্যানে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় উপস্থিত হন।

একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, আপসহীন রাজনৈতিক নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিরপ্রস্থানে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে পুরো জাতি।