মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বহুল আলোচিত ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার সরকার (৩৪) হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় তিন প্রধান আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গত ৩ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আনন্দ সরকার, তাপস সরকার ও শাওন সরকারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য তথ্য ও আলামত উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৯ জুন সন্ধ্যায় কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিব কুমার সরকার তার বাবা গোপাল চন্দ্র সরকারের সঙ্গে পারিবারিক মৎস্যঘেরে যান। রাতে বাবা বাড়ি ফিরে এলেও সঞ্জিব ঘের পাহারার জন্য সেখানে অবস্থান করেন। পরদিন ৩০ জুন ভোরে ঘেরের পাশ থেকে তার রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে ২ জুলাই কালিগঞ্জ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। জমিজমা ও মৎস্যঘেরের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্তে এর আগে এজাহারভুক্ত আসামি নেপাল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হন। পরে যৌথ অভিযানে এজাহারবহির্ভূত আসামি নিতাই চন্দ্র সরকারকে পাইকগাছার কপিলমুনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, নিহত সঞ্জিবের রেখে যাওয়া ১০ মাসের কন্যাসন্তান, তরুণী স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা মায়া রানী সরকারকে নিয়ে পরিবারটি চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। আসামিদের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় পরিবারটির মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে।
এখন মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে আদালতের রিমান্ড আবেদনের শুনানি এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা
প্রতিনিধির নাম 








