সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ৪৩ নম্বর তুলাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল গেট ও সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে গোবর ও আবর্জনার স্তূপ করে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই শিশুদের কাছে খোলা ও ক্ষতিকর শিশুখাদ্য বিক্রির প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়টির সভাপতি ও শিক্ষকদের ওপর লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও ঝাড়ু নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর এলাকার মো. মাদার আলী গাজী ও তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মূল গেট ও সীমানা প্রাচীরের গায়ে অস্বাস্থ্যকর গোবর এবং গোবরকাঠি জমিয়ে রাখছেন। এছাড়া স্কুল চলাকালীন প্রাচীরের গায়ে বিভিন্ন ব্যবহৃত কাপড়চোপড় ও জিনিসপত্র ঝুলিয়ে রেখে পরিবেশ নষ্ট করে আসছিলেন তারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বহুবার বারণ করলেও তাঁরা এই কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি।
গত ২৯ অক্টোবর বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভা চলাকালে সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সভাপতি, শিক্ষকবৃন্দ ও কমিটির সদস্যরা অভিযুক্তদের রাস্তা ও গেট থেকে গোবর-আবর্জনা সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও ঝাড়ু নিয়ে শিক্ষক ও সভাপতির ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে রাস্তার ধারে জমে থাকা গোবরের স্তূপের ঠিক পাশেই একটি দোকান বসিয়ে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে অস্বাস্থ্যকর ও খোলা খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে যেকোনো সময় ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে চরম উদ্বেগ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রতিনিধির নাম 








