মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক চক্রের বিরুদ্ধে। কুশুলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজার ১৫ শতক পৈতৃক জমি জবরদখল করতে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে তাছের সরদার ও হারুন সরদার গংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবননাশের হুমকির মুখে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলামের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর মৌজার ১৫২৯ দাগের ১৫ শতক জমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এসএ ও আরএস রেকর্ড থেকে শুরু করে হাল দাখিলা, খাজনা এবং নামজারি (মিউটেশন)-সবই নজরুল ইসলাম গংয়ের নামে রয়েছে। আইনের সকল বৈধতা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা পেশিশক্তির জোরে জমিটি দখল করতে মরিয়া।
সূত্র জানিয়েছে, জমিটি নিয়ে আগে থেকেই আদালতে মামলা চলমান এবং আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ, আইনের তোয়াক্কা না করে গত ২৫ মে সন্ধ্যায় তাছের সরদার ও হারুন সরদারের নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্রসহ ভেকু মেশিন নিয়ে জমিতে হানা দেয়। জোরপূর্বক মাটি কাটার সময় ভুক্তভোগীরা বাধা দিতে গেলে তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, “আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে বেশ কয়েকবার মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু বিবাদীরা আইন-কানুন মানতে নারাজ। তারা গায়ের জোরে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছে, যা স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি সবেমাত্র থানায় যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। যেহেতু মামলা ও লিখিত অভিযোগ রয়েছে, তাই দুপক্ষকে ডেকে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের সব বৈধ কাগজপত্রের পরও বিবাদীরা যেভাবে ভেকু দিয়ে জমি গিলে খাচ্ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা এবং দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।”
ভূমিদস্যুদের এমন বেপরোয়া আচরণ ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আইনের চেয়ে কি পেশিশক্তি বড়? প্রশাসন কি অপেক্ষা করছে কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য? স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে কালিগঞ্জের গোবিন্দপুর এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 

















