
মোঃ ইশারাত আলী :
ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের গণ-বহিষ্কারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনের অভ্যন্তরে। কাজী আবু সাঈদ সোহেলের মতো শত শত পরীক্ষিত ও রাজপথের লড়াকু নেতাকর্মীর এই অন্যায্য বহিষ্কারাদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের এভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখলে সেই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলো পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যার রাজনৈতিক ফায়দা সরাসরি লুফে নিতে পারে জামায়াতে ইসলামী।
এমনই এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া ষড়যন্ত্রমূলক বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব কাজী আবু সাঈদ সোহেল (এম.এ, এল.এল.বি)।
লিখিত আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই কাজী আবু সাঈদ সোহেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জিয়া পরিবারের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে রাজপথে লড়ে আসছেন। দলের প্রতিটি সংকটকালীন সময়ে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতন আন্দোলনসহ প্রতিটি কর্মসূচিতে অগ্রভাগে থাকায় তিনি একাধিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা, হামলা, জেল-জুলুম ও পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের মতো চরম হয়রানির শিকার হন। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন পলাতক ও আত্মগোপনে থাকায়, একমাত্র পুত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুশয্যায় পাশে থাকার সুযোগ পর্যন্ত পাননি।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলকে সুসংগঠিত করতে তাঁর অবদান সর্বজনস্বীকৃত। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১২টি ইউনিয়ন ও ১০৮টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়। এই অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলকে জেলার “সেরা সংগঠক” হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূষিত করা হয়েছিল।
আবেদনপত্রে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে এই তৃণমূল নেতা জানান, গত ০৪/০২/২০২৬ ইং তারিখে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘নির্বাচন সংক্রান্ত দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও দল অবমূল্যায়ন’-এর সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মনগড়া অভিযোগে তাঁকেসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। অথচ বহিষ্কারাদেশ পাওয়ার পরও দলের প্রতি অনুগত থেকে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েছেন এবং ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই জানপ্রাণ দিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
“কাজী আবু সাঈদ সোহেল হলেন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাণ। ১২টি ইউনিয়ন ও ১০৮টি ওয়ার্ডের যে শক্তিশালী দুর্গ তিনি গড়ে তুলেছেন, তা সাতক্ষীরা জেলায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁকে মাইনাস করার অর্থ হলো কালিগঞ্জে সংগঠনকে পঙ্গু করে দেওয়া। একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের আখের গোছাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের ভুল বুঝিয়ে এই মনগড়া বহিষ্কারাদেশ করিয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই অন্যায় আদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
“বিগত ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে যখন অনেকে ভয়ে ঘরে লুকিয়ে ছিল, তখন এই কাজী সোহেলরা রাজপথে বুক পেতে দিয়েছে। মামলা-হামলায় ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। আজ সুসময় আসতেই একদল সুবিধাবাদী এসে ত্যাগীদের বহিষ্কারের খেলা শুরু করেছে। কালিগঞ্জের মাটি জিয়ার ঘাঁটি, এখানে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন করলে সাধারণ কর্মীরা ঘরে বসে যাবে। যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে দলকে।”
“কালিগঞ্জের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে যদি বিএনপির লড়াকু নেতৃত্বকে এভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়, তবে সেই সাংগঠনিক শূন্যতার সুযোগ নেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলো। তারা গোপনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আর এর সরাসরি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা লুফে নেবে জামায়াতে ইসলামী, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে বিএনপির একক আধিপত্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”
কিসমোতুল বারী, নলতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নির্বাচিত সভাপতি। তিনি বলেন ছাত্রজীবন থেকে আমরা রাজনীতি করে আসছি। দলের কঠিন সময় আমরা রাজপথে থেকে মামলা হামলা খেয়েছি। এখন আমরা বিভিন্ন অভিযোগে বহিস্কৃত। বুল বোঝাবুঝির অবসান হোক।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক এস এস সেলিম বলেন আমাদের চোখের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপমান জনক কথা বলছে। অথচ দল চুপচাপ। আমরা এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার চাই।
ঠিক এভাবেই কথা বলেছেন শেখ পারভেজ ইসলাম সাবেক সদস্য সচিব কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল, আবু ফরহাদ সাদ্দাম সাবেক আহবায়ক কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল, রাজু আহমেদ জাকির সাবেক সহ-সভাপতি সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল, শামীম পারভেজ সাবেক যুগ্ন আহবায়ক কালিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, শেখ ফয়সাল কবির সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপি, শেখ আলাউদ্দীন সোহেল, জাহাঙ্গির আলম, আব্দুল আজিজ সহ শতশত নেতাকর্মী।
তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীদের স্পষ্ট দাবি, দলের বৃহত্তর স্বার্থে, স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা রুখতে অতি দ্রুত কাজী সোহেলসহ সকল রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকদের দলে পুনর্বহাল করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।
প্রতিনিধির নাম 








