1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদ বৈঠক: অনড় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কালিগঞ্জে চেয়ারম্যানের বাড়ী অবৈধ ডিজেল, যৌথ বাহিনীর অভিযান, মুচেলকা শেষে জরিমানা পাকিস্তান সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দল: ইরান যুদ্ধ বিরতির লাইভ আপডেট কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে শিক্ষক পরিবার: সর্বস্ব লুট কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ ট্রাম্পের চরমসীমার মুখে পাকিস্তান-প্রণীত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জ্বালানী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত একটি প্রস্তুতি থাকতে হবে কালিগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার : জনমনে আতঙ্ক, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে প্রক্ষেপক হামলা: নিহত ১ সাতক্ষীরার তিন উপজেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা: জনজীবন ও কৃষিতে বিশেষ নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: বিশ্ব তেলের বাজারে মহাপ্রলয়, খাদের কিনারে বিশ্ব অর্থনীতি!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ আর বারুদের গন্ধে কাঁপছে বিশ্ব তেলের বাজার। ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পারদ যত উপরে উঠছে, বিশ্ব অর্থনীতি ততোই এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। খনিজ তেলের প্রধান উৎস এই অঞ্চলে অস্থিরতার জেরে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা হবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাপ্রলয়। জ্বালানি সংকটের এই আগুনেই পুড়তে যাচ্ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি, যার আঁচ থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগরের সরু পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে। যুদ্ধের উত্তাপে এই পথটি যদি অবরুদ্ধ হয়, তবে থমকে যাবে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সুয়েজ খাল ভিত্তিক বাণিজ্য পথ এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তেলের ট্যাংকারগুলোকে হাজার হাজার মাইল ঘুরে আফ্রিকা হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন খরচ ও বীমার ওপর।

তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক প্লাস’ (OPEC+) বর্তমানে উৎপাদন বাড়ানোর বদলে কমানোর নীতিতে অনড় রয়েছে। সৌদি আরব ও রাশিয়ার এই কৌশল বিশ্ববাজারে কৃত্রিম তেলের সংকটকে আরও উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত রিজার্ভ থেকে তেল ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সমুদ্রের মাঝে এক ফোঁটা শিশিরের মতো কাজ করছে। ফলে বাজার এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার কবলে।

আমদানিনির্ভর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই সংকট এক ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। তেলের দাম বাড়ার অর্থ হলো ডলার সংকট প্রকট হওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন এবং অসহনীয় মুদ্রাস্ফীতি। ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ ও সার উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে কলকারখানা স্থবির হয়ে পড়বে এবং পরিবহন ভাড়া আকাশচুম্বী হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কেবল ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই নয়, এটি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এক মরণকামড়। যদি কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধান না আসে, তবে উচ্চমূল্যের জ্বালানি তেলের চাপে ভেঙে পড়তে পারে অনেক উন্নয়নশীল দেশের মেরুদণ্ড। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে, যেখানে এক ব্যারেল তেলের দামই নির্ধারণ করবে আগামীর বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদ বৈঠক: অনড় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: বিশ্ব তেলের বাজারে মহাপ্রলয়, খাদের কিনারে বিশ্ব অর্থনীতি!

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ আর বারুদের গন্ধে কাঁপছে বিশ্ব তেলের বাজার। ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পারদ যত উপরে উঠছে, বিশ্ব অর্থনীতি ততোই এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। খনিজ তেলের প্রধান উৎস এই অঞ্চলে অস্থিরতার জেরে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা হবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাপ্রলয়। জ্বালানি সংকটের এই আগুনেই পুড়তে যাচ্ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি, যার আঁচ থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশও।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগরের সরু পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে। যুদ্ধের উত্তাপে এই পথটি যদি অবরুদ্ধ হয়, তবে থমকে যাবে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ। অন্যদিকে, লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সুয়েজ খাল ভিত্তিক বাণিজ্য পথ এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তেলের ট্যাংকারগুলোকে হাজার হাজার মাইল ঘুরে আফ্রিকা হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন খরচ ও বীমার ওপর।

তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক প্লাস’ (OPEC+) বর্তমানে উৎপাদন বাড়ানোর বদলে কমানোর নীতিতে অনড় রয়েছে। সৌদি আরব ও রাশিয়ার এই কৌশল বিশ্ববাজারে কৃত্রিম তেলের সংকটকে আরও উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত রিজার্ভ থেকে তেল ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সমুদ্রের মাঝে এক ফোঁটা শিশিরের মতো কাজ করছে। ফলে বাজার এখন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার কবলে।

আমদানিনির্ভর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই সংকট এক ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। তেলের দাম বাড়ার অর্থ হলো ডলার সংকট প্রকট হওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন এবং অসহনীয় মুদ্রাস্ফীতি। ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ ও সার উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে, যা খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে কলকারখানা স্থবির হয়ে পড়বে এবং পরিবহন ভাড়া আকাশচুম্বী হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কেবল ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই নয়, এটি বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এক মরণকামড়। যদি কূটনৈতিকভাবে দ্রুত সমাধান না আসে, তবে উচ্চমূল্যের জ্বালানি তেলের চাপে ভেঙে পড়তে পারে অনেক উন্নয়নশীল দেশের মেরুদণ্ড। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে, যেখানে এক ব্যারেল তেলের দামই নির্ধারণ করবে আগামীর বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা।