1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদ বৈঠক: অনড় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কালিগঞ্জে চেয়ারম্যানের বাড়ী অবৈধ ডিজেল, যৌথ বাহিনীর অভিযান, মুচেলকা শেষে জরিমানা পাকিস্তান সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দল: ইরান যুদ্ধ বিরতির লাইভ আপডেট কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে শিক্ষক পরিবার: সর্বস্ব লুট কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ ট্রাম্পের চরমসীমার মুখে পাকিস্তান-প্রণীত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জ্বালানী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত একটি প্রস্তুতি থাকতে হবে কালিগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার : জনমনে আতঙ্ক, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে প্রক্ষেপক হামলা: নিহত ১ সাতক্ষীরার তিন উপজেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা: জনজীবন ও কৃষিতে বিশেষ নির্দেশনা

কালিগঞ্জে নদী রক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়ম : ১৫ লক্ষ টাকার বাঁশ-খুঁটির বাঁধ যেন বালির বাঁধ!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আদি যমুনা নদীর ভাঙন রোধে সরকারি বরাদ্দের ১৫ লক্ষ টাকা যেন মাঝপথেই ‘নদীগর্ভে’ চলে যাচ্ছে। উপজেলার পাউখালী-নাজিমগঞ্জ সড়কের বাজার গ্রাম এলাকায় চলমান অস্থায়ী ঢাল সুরক্ষা (Palisading) প্রকল্পে ব্যপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নকশা বহির্ভূত কাজের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল্লাহর দান এসকেভেটর এন্ড ট্রাক্টর-এর বিরুদ্ধে সিডিউল ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দায়িত্বরত কালিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী নবকুমারের উপস্থিতিতেই এসব অনিয়ম চললেও তিনি থাকছেন নীরব, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) নকশা অনুযায়ী, ৩০৫ মিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে (প্যাকেজ নং: DPM-Sat1-Kali-03/2025) থেকে ১৩ সেমি ব্যাসের শক্ত খুটি এবং ৮ সেমি ব্যাসের বাঁশ ব্যবহারের কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত চিকন ও কাঁচা বাঁশ-খুঁটি ব্যবহার করছে। নকশায় ১ মিটার পর পর খুটি এবং ০.৩০ মিটার পর পর বাঁশ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার নিজের খেয়ালখুশিমতো অনেক বেশি দূরত্ব বজায় রেখে কাজ সারছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিডিউল অনুযায়ী বুল্লাহ ৩.৫ মিটার এবং বাঁশ ২.০ মিটার মাটির গভীরে ঢোকানোর নির্দেশ রয়েছে। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্ধেকেরও কম গভীরতায় নামমাত্র পুঁতে রাখা হয়েছে এসব খুঁটি। ফলে জোয়ারের সামান্য পানির চাপেই পুরো পাইলিং ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন-যে বাঁধ মানুষের জানমাল রক্ষা করবে, সেই বাঁধই যদি নড়বড়ে হয়, তবে এই ১৫ লক্ষ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে?

নকশায় বাঁধকে ধরে রাখার জন্য প্রতি ৫ মিটার অন্তর ৬ মিমি ব্যাসের পুল রড রড (Pull Rod) এবং ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বাঁশের ঠেসা (Support) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া সুরক্ষার জন্য ০.৬০ মিটার উচ্চতার চাটাই ও অর্ধেক ফালি করা বাঁশের ডাবল ওয়াল্লিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়ম মাফিক কাজ করা হয়নি। বাঁধে ১:২ অনুপাতে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় কাজের নামে কেবল শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে পুরো কাজটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন অফিসের কার্যসহকারী নবকুমার। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং টাই-রড না দেওয়ার সময়ও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রকৌশলীদের এমন রহস্যজনক নীরবতা ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন বাজার গ্রামের বাসিন্দারা। অথচ এই প্রকল্পটি প্রস্তুত করেছেন মো: রমিত হোসেন মনি এবং যাচাই করেছেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: ইমরান সরদার। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: নাজমুল হকের অনুমোদিত এই নকশা এখন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।

এব্যাপারে এই প্রকল্পের প্রস্তুতকারী মো: রমিত হোসেন মনি (উপ-সহকারী প্রকৌশলী)। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কালিগঞ্জ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছি। কিছু সমস্যা আছে। আমি ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি আশাকরি সমস্যা গুলো চিহ্ণিত করে সমাধান করতে পারবো।

বিষয়টি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তারকে জানালে তিনি বলেন বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই দায়সারা কাজের ফলে পাউখালী-নাজিমগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অনিয়মের তদন্ত করুক এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নকশা অনুযায়ী মজবুত বাঁধ তৈরি করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থের এই অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনে নামবেন তারা।#

কালিগঞ্জে তেলের কৃত্রিম সংকটের অপচেষ্টা, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদ বৈঠক: অনড় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

কালিগঞ্জে নদী রক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়ম : ১৫ লক্ষ টাকার বাঁশ-খুঁটির বাঁধ যেন বালির বাঁধ!

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে আদি যমুনা নদীর ভাঙন রোধে সরকারি বরাদ্দের ১৫ লক্ষ টাকা যেন মাঝপথেই ‘নদীগর্ভে’ চলে যাচ্ছে। উপজেলার পাউখালী-নাজিমগঞ্জ সড়কের বাজার গ্রাম এলাকায় চলমান অস্থায়ী ঢাল সুরক্ষা (Palisading) প্রকল্পে ব্যপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নকশা বহির্ভূত কাজের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল্লাহর দান এসকেভেটর এন্ড ট্রাক্টর-এর বিরুদ্ধে সিডিউল ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দায়িত্বরত কালিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী নবকুমারের উপস্থিতিতেই এসব অনিয়ম চললেও তিনি থাকছেন নীরব, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) নকশা অনুযায়ী, ৩০৫ মিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে (প্যাকেজ নং: DPM-Sat1-Kali-03/2025) থেকে ১৩ সেমি ব্যাসের শক্ত খুটি এবং ৮ সেমি ব্যাসের বাঁশ ব্যবহারের কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত চিকন ও কাঁচা বাঁশ-খুঁটি ব্যবহার করছে। নকশায় ১ মিটার পর পর খুটি এবং ০.৩০ মিটার পর পর বাঁশ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার নিজের খেয়ালখুশিমতো অনেক বেশি দূরত্ব বজায় রেখে কাজ সারছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিডিউল অনুযায়ী বুল্লাহ ৩.৫ মিটার এবং বাঁশ ২.০ মিটার মাটির গভীরে ঢোকানোর নির্দেশ রয়েছে। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্ধেকেরও কম গভীরতায় নামমাত্র পুঁতে রাখা হয়েছে এসব খুঁটি। ফলে জোয়ারের সামান্য পানির চাপেই পুরো পাইলিং ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন-যে বাঁধ মানুষের জানমাল রক্ষা করবে, সেই বাঁধই যদি নড়বড়ে হয়, তবে এই ১৫ লক্ষ টাকা কার পকেটে যাচ্ছে?

নকশায় বাঁধকে ধরে রাখার জন্য প্রতি ৫ মিটার অন্তর ৬ মিমি ব্যাসের পুল রড রড (Pull Rod) এবং ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বাঁশের ঠেসা (Support) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া সুরক্ষার জন্য ০.৬০ মিটার উচ্চতার চাটাই ও অর্ধেক ফালি করা বাঁশের ডাবল ওয়াল্লিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়ম মাফিক কাজ করা হয়নি। বাঁধে ১:২ অনুপাতে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় কাজের নামে কেবল শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে পুরো কাজটি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন অফিসের কার্যসহকারী নবকুমার। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং টাই-রড না দেওয়ার সময়ও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রকৌশলীদের এমন রহস্যজনক নীরবতা ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন বাজার গ্রামের বাসিন্দারা। অথচ এই প্রকল্পটি প্রস্তুত করেছেন মো: রমিত হোসেন মনি এবং যাচাই করেছেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: ইমরান সরদার। নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আশরাফুল আলম এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: নাজমুল হকের অনুমোদিত এই নকশা এখন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ।

এব্যাপারে এই প্রকল্পের প্রস্তুতকারী মো: রমিত হোসেন মনি (উপ-সহকারী প্রকৌশলী)। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কালিগঞ্জ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছি। কিছু সমস্যা আছে। আমি ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি আশাকরি সমস্যা গুলো চিহ্ণিত করে সমাধান করতে পারবো।

বিষয়টি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তারকে জানালে তিনি বলেন বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই দায়সারা কাজের ফলে পাউখালী-নাজিমগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অনিয়মের তদন্ত করুক এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নকশা অনুযায়ী মজবুত বাঁধ তৈরি করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থের এই অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনে নামবেন তারা।#

কালিগঞ্জে তেলের কৃত্রিম সংকটের অপচেষ্টা, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন