1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও ১০ম প্রযুক্তি সপ্তাহ ও মেলা অনুষ্ঠিত খাজাবাড়িয়ায় দাপুটে মহলের ‘রাস্তা দখল’: জনচলাচলের রাস্তা রুদ্ধ, প্রশাসন কি নির্বিকার? কালিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে ‘মব কালচার’: বিশৃঙ্খলার জেরে তেল সরবরাহ বন্ধ, জিম্মি সাধারণ মানুষ বর্ণাঢ্য আয়োজনে কালিগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ: পান্তা-ইলিশ ও গ্রামীণ মেলার আমেজ মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র: ২০২৬ সালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও অস্থিরতার সমীকরণ ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি: আজ রাতে ঘোষণার সম্ভাবনা সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ১৭ কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও নতুন উত্তেজনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইসলামাবাদ বৈঠক: অনড় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কালিগঞ্জে চেয়ারম্যানের বাড়ী অবৈধ ডিজেল, যৌথ বাহিনীর অভিযান, মুচেলকা শেষে জরিমানা

কালিগঞ্জে ডা. শহিদুল আলম শেষ নির্বাচনী জনসভা-নারী ভোটাররাই হয়ে উঠলেন আশার আলো

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৩০ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী:

কেউ এসেছেন শিশুকে কোলে নিয়ে, কেউ আবার ঘরের কাজ ফেলে। কারও মাথার ওড়নায় রোদের ছাপ, কারও চোখে দীর্ঘদিনের না-বলা কথার ভার। তবুও তারা এসেছেন। কারণ একটাই-ভোট। নিজের সিদ্ধান্তের অধিকার।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার শহিদুল আলমের শেষ নির্বাচনী জনসভায় নারীদের যে ঢল নেমেছিল, তা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না-ওটা ছিল নীরব প্রতিবাদ, নীরব প্রত্যাশা আর বিশ্বাসের এক বিশাল প্রকাশ। কারন তাদের স্বামী, ভাই, বোনরা বহিস্কার হয়েছে বিএনপি থেকে। গরীবের ডাঃ শহিদুল আলমের সাথে থাকার জন্য।

সভাস্থলে দাঁড়ালে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল-এই জনসমুদ্রের বড় অংশই নারী। কেউ প্রথমবার ভোট দেবেন, কেউ আবার বহু নির্বাচনের সাক্ষী। বয়সের ভিন্নতা থাকলেও তাদের চোখে ছিল একই প্রশ্ন-“এইবার কি সত্যিই কিছু বদলাবে?” তাদের প্রত্যাশা শহিদুল আলম তার স্বামীর চিকিৎসা দিয়ে জীবন ফিরিয়েছেন। তার স্বামী যখন জেলখানায় ছিল তখন বাজার করে দিয়েছেন। মামলার খরচ দিয়েছেন।

সুফিয়া খাতুন নামের এক বৃদ্ধা নারী, কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “আমার জীবনে অনেক ভোট দেখছি বাবা। কিন্তু উনি ডাক্তার মানুষ-অসুখে গেলে ফিরিয়ে দেননি। তাই এবার মন থেকে ভোট দিতে চাই।” আমরা তার কাছে ঋণি।

আরেক তরুণী সোনিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কথা বলি না বলে মনে হয় আমাদের কিছু নেই। কিন্তু ভোটের দিন আমরাই ঠিক করি কাকে জেতাব।” এবার আমাদের সুযোগ হয়েছে ডাঃ শহিদুল আলমকে ভোট দেওয়ার। আমরা তাকে ভোট দেব কারন আমরা তার কাছে ঋণি।

ডা. শহিদুল আলম যখন বক্তব্য রাখতে দাঁড়ালেন, তখন ভিড় নিস্তব্ধ। তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন,

“আপনারা শুধু ভোটার নন, আপনারাই এই সমাজের ভিত্তি। আপনাদের সম্মান আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অঙ্গীকার।” আপনারা সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট কেন্দ্রে যাবেন। মজলুমের পক্ষে ভোট দেবেন।

এই কথাগুলো যেন অনেক নারীর বুকের ভেতরের না-বলা কথার সঙ্গে মিলে গেল। কারও চোখে জল, কারও মুখে মৃদু হাসি। অনেকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মঞ্চের দিকে। তারা তার কথা শুনেছে কিন্তু এবার প্রথম দেখলো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালিগঞ্জে নারী ভোটারদের এই আবেগী ও সচেতন উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুটবল প্রতীকে নারীদের সমর্থন এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। যা অন্য রাজনৈতিক দলের মাথা ভার করে দিয়েছে।

সভা শেষ হলেও অনেক নারী তখনো বসে ছিলেন। হয়তো বক্তব্য শোনার জন্য নয়-বরং এই অনুভূতিটা কিছুক্ষণ ধরে রাখার জন্য যে, এইবার তাদের কণ্ঠস্বরও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ ডুবে যাচ্ছিল পশ্চিম আকাশে। আর কালিগঞ্জের মাটিতে রয়ে গেল হাজারো নারীর নিঃশব্দ অঙ্গীকার-ভোট শুধু কাগজে নয়, এবার বদলাবে ভবিষ্যৎ। তাই ডাঃ শহিদুল আলমের ফুটবল প্রতীক তাদের আশার আলো।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও ১০ম প্রযুক্তি সপ্তাহ ও মেলা অনুষ্ঠিত

কালিগঞ্জে ডা. শহিদুল আলম শেষ নির্বাচনী জনসভা-নারী ভোটাররাই হয়ে উঠলেন আশার আলো

আপডেট সময় : ১১:১৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী:

কেউ এসেছেন শিশুকে কোলে নিয়ে, কেউ আবার ঘরের কাজ ফেলে। কারও মাথার ওড়নায় রোদের ছাপ, কারও চোখে দীর্ঘদিনের না-বলা কথার ভার। তবুও তারা এসেছেন। কারণ একটাই-ভোট। নিজের সিদ্ধান্তের অধিকার।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার শহিদুল আলমের শেষ নির্বাচনী জনসভায় নারীদের যে ঢল নেমেছিল, তা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না-ওটা ছিল নীরব প্রতিবাদ, নীরব প্রত্যাশা আর বিশ্বাসের এক বিশাল প্রকাশ। কারন তাদের স্বামী, ভাই, বোনরা বহিস্কার হয়েছে বিএনপি থেকে। গরীবের ডাঃ শহিদুল আলমের সাথে থাকার জন্য।

সভাস্থলে দাঁড়ালে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল-এই জনসমুদ্রের বড় অংশই নারী। কেউ প্রথমবার ভোট দেবেন, কেউ আবার বহু নির্বাচনের সাক্ষী। বয়সের ভিন্নতা থাকলেও তাদের চোখে ছিল একই প্রশ্ন-“এইবার কি সত্যিই কিছু বদলাবে?” তাদের প্রত্যাশা শহিদুল আলম তার স্বামীর চিকিৎসা দিয়ে জীবন ফিরিয়েছেন। তার স্বামী যখন জেলখানায় ছিল তখন বাজার করে দিয়েছেন। মামলার খরচ দিয়েছেন।

সুফিয়া খাতুন নামের এক বৃদ্ধা নারী, কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “আমার জীবনে অনেক ভোট দেখছি বাবা। কিন্তু উনি ডাক্তার মানুষ-অসুখে গেলে ফিরিয়ে দেননি। তাই এবার মন থেকে ভোট দিতে চাই।” আমরা তার কাছে ঋণি।

আরেক তরুণী সোনিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কথা বলি না বলে মনে হয় আমাদের কিছু নেই। কিন্তু ভোটের দিন আমরাই ঠিক করি কাকে জেতাব।” এবার আমাদের সুযোগ হয়েছে ডাঃ শহিদুল আলমকে ভোট দেওয়ার। আমরা তাকে ভোট দেব কারন আমরা তার কাছে ঋণি।

ডা. শহিদুল আলম যখন বক্তব্য রাখতে দাঁড়ালেন, তখন ভিড় নিস্তব্ধ। তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন,

“আপনারা শুধু ভোটার নন, আপনারাই এই সমাজের ভিত্তি। আপনাদের সম্মান আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অঙ্গীকার।” আপনারা সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট কেন্দ্রে যাবেন। মজলুমের পক্ষে ভোট দেবেন।

এই কথাগুলো যেন অনেক নারীর বুকের ভেতরের না-বলা কথার সঙ্গে মিলে গেল। কারও চোখে জল, কারও মুখে মৃদু হাসি। অনেকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মঞ্চের দিকে। তারা তার কথা শুনেছে কিন্তু এবার প্রথম দেখলো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালিগঞ্জে নারী ভোটারদের এই আবেগী ও সচেতন উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুটবল প্রতীকে নারীদের সমর্থন এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। যা অন্য রাজনৈতিক দলের মাথা ভার করে দিয়েছে।

সভা শেষ হলেও অনেক নারী তখনো বসে ছিলেন। হয়তো বক্তব্য শোনার জন্য নয়-বরং এই অনুভূতিটা কিছুক্ষণ ধরে রাখার জন্য যে, এইবার তাদের কণ্ঠস্বরও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ ডুবে যাচ্ছিল পশ্চিম আকাশে। আর কালিগঞ্জের মাটিতে রয়ে গেল হাজারো নারীর নিঃশব্দ অঙ্গীকার-ভোট শুধু কাগজে নয়, এবার বদলাবে ভবিষ্যৎ। তাই ডাঃ শহিদুল আলমের ফুটবল প্রতীক তাদের আশার আলো।