1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
র‍‍্যাবের অভিযানে কৃষ্ণনগরের রেজাউল গাজী আটক কালিগঞ্জে পুকুরে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু মহান একুশ মানে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান: হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার শহীদ মিনারে কালিগঞ্জ সেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধা নিবেদন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা: তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন যাত্রা কালিগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী-পরবর্তী বর্ধিত সভা, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান, বহিষ্কৃতদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান কালিগঞ্জে মাদকাটি গ্রামে রাতে হামলা, আহত ১ সাতক্ষীরায় ‘লুক মেন সেলুন’-এর উদ্বোধন কালিগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা : অফিস দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে আহত ৮ সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী রবিউল বাশার বিজয়ী হয়েছেন।

লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় নিলেন খালেদা জিয়া

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজেস্ব প্রতিনিধি :

অকৃত্রিম ভালোবাসা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কোটি মানুষের ভালোবাসা সঙ্গী করে তিনি পাড়ি জমালেন অসীম অনন্তলোকে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় অংশ নিতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। জানাজায় অংশ নেওয়া অসংখ্য মানুষ আবেগে ভেঙে পড়েন। কেউ হাউমাউ করে কেঁদেছেন, কেউবা নীরবে চোখের পানি মুছেছেন। শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান তারা।

এদিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের পুরো এলাকা মানুষের ভিড়ে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ জানাজার নামাজ আদায় করেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে অনেককে দূরের সড়কেই অবস্থান নিতে দেখা যায়।

বেলা তিনটার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

এর আগে দুপুর ১২টার পর জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। পরে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার কফিন জানাজার স্থানে আনা হয়। জানাজা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়া এই আপসহীন নেত্রী ৪১ বছর বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বহুবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে তাকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কখনো দেশ ছাড়েননি তিনি।

জানাজার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে। দাফনকাজে পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি ও বিএনপির মনোনীত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। দাফনকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিয়া উদ্যানে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় উপস্থিত হন।

একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, আপসহীন রাজনৈতিক নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিরপ্রস্থানে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে পুরো জাতি।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪১২ বার পড়া হয়েছে
    • How Is My Site?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
    ফজরসময়
    জোহরসময়
    আসরসময়
    মাগরিবসময়
    ইশাসময়
    সূর্যোদয় : সময় সূর্যাস্ত : সময়

    লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় নিলেন খালেদা জিয়া

    আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

    নিজেস্ব প্রতিনিধি :

    অকৃত্রিম ভালোবাসা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কোটি মানুষের ভালোবাসা সঙ্গী করে তিনি পাড়ি জমালেন অসীম অনন্তলোকে।

    বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় অংশ নিতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। জানাজায় অংশ নেওয়া অসংখ্য মানুষ আবেগে ভেঙে পড়েন। কেউ হাউমাউ করে কেঁদেছেন, কেউবা নীরবে চোখের পানি মুছেছেন। শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান তারা।

    এদিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের পুরো এলাকা মানুষের ভিড়ে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ জানাজার নামাজ আদায় করেন। নির্ধারিত স্থানে জায়গা না পেয়ে অনেককে দূরের সড়কেই অবস্থান নিতে দেখা যায়।

    বেলা তিনটার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক।

    জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

    এর আগে দুপুর ১২টার পর জাতীয় পতাকায় মোড়ানো গাড়িতে খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছায়। পরে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার কফিন জানাজার স্থানে আনা হয়। জানাজা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

    প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়া এই আপসহীন নেত্রী ৪১ বছর বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বহুবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে তাকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কখনো দেশ ছাড়েননি তিনি।

    জানাজার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে। দাফনকাজে পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি ও বিএনপির মনোনীত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

    দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। দাফনকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিয়া উদ্যানে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।

    খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় উপস্থিত হন।

    একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, আপসহীন রাজনৈতিক নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিরপ্রস্থানে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে পুরো জাতি।