1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফার-এর মৃত্যুতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার গভীর শোক প্রকাশ র‍‍্যাবের অভিযানে কৃষ্ণনগরের রেজাউল গাজী আটক কালিগঞ্জে পুকুরে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু মহান একুশ মানে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান: হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার শহীদ মিনারে কালিগঞ্জ সেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধা নিবেদন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা: তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন যাত্রা কালিগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী-পরবর্তী বর্ধিত সভা, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান, বহিষ্কৃতদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান কালিগঞ্জে মাদকাটি গ্রামে রাতে হামলা, আহত ১ সাতক্ষীরায় ‘লুক মেন সেলুন’-এর উদ্বোধন কালিগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা : অফিস দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে আহত ৮

কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল কার্যত অচল চিকিৎসক সংকটে বন্ধ ডেন্টাল বিভাগ, রেডিওগ্রাফি, অপারেশন থিয়েটার; নষ্ট অ্যাম্বুলেন্স

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে চরম চিকিৎসক সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে ৩৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৩ জন। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডেন্টাল বিভাগ, রেডিওগ্রাফি, অপারেশন থিয়েটার বন্ধ হয়ে গেছে এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবাও দীর্ঘদিন ধরে অচল।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নিয়মিত কর্মরত হলে তালিকা অনুযায়ী ১৬৮ জন বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করবেন। সে হিসেবে হাসপাতালের মোট জনবলের সংখ্যা নির্দিষ্ট নিয়মে নির্ধারিত হলে, কনসালট্যান্ট (বিভিন্ন বিভাগ), রেসিডেন্ট/মেডিকেল অফিসার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার। সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ। ল্যাব টেকনিশিয়ান, এক্স-রে/ইমেজিং টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট। ওয়ার্ড বয়/আয়া, ওয়ার্ড মাস্টার, ক্লিনার, ক্যাটারিং স্টাফ। ম্যানেজার, হিসাবরক্ষক, রিসেপশনিস্ট। ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানের জন্য ৩ শিফটে কাজ করবেন। চিকিৎসক সংকট থাকার কারনে ৩৪ জন ডাক্তার ২৫ জন স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনোলোজিস্ট, ওয়ার্ড বয় থেকে মালি পর্যন্ত বসে বসে সময় কাটাচ্ছেন ও বেতন সুবিধাদি ভোগ করছেন চিকিৎসা সেবা প্রদান ব্যতিত। অথচ খবরের অন্তরালে সরকারী ঔষধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুবিধাদি লুটপাট হচ্ছে বলে এমন অভিযোগ উঠেছে রোগীদের পক্ষথেকে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন চিকিৎসক। এর বাইরে ডা. এ. এম. মুসাদ্দিক হোসাইন খান সপ্তাহে মাত্র দুই দিন রোগী দেখেন এবং ডা. গৌতম চক্রবর্তী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন বিধায় কালিগঞ্জে পূর্ণ সময় উপস্থিত থাকেন না। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ৩জন চিকিৎসকের।
চিকিৎসক সংকটের কারণে হাসপাতালে আসা রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বিশেষ করে ইমার্জেন্সি বিভাগে স্ট্রোক ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী ভর্তি দেখিয়ে সাতক্ষীরা সদর বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা করছে। রোগীদের অভিযোগ, রেফার্ডের নামে সময় ক্ষেপণ করা হয়। এতে পথিমধ্যে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে পড়ে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশে সক্রিয় রয়েছে একটি দালাল চক্র। তারা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায় করছে, আবার অনেককে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিতে প্রলুব্ধ করছে। ফলে রোগীরা একদিকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
শফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তার দেখানোর পর ওষুধ নিতে গেলে প্যারাসিটামল আর পেট কামড়ানোর ওষুধ ছাড়া কিছুই পাই না। ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই, নামে মাত্র সরকারি হাসপাতাল।” স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের এই বেহাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে কালিগঞ্জের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাতে কালিগঞ্জের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইব্রাহিম এ প্রতিনিধিকে বলেন, “সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কালিগঞ্জ হাসপাতালে ডাক্তার নেই। রোগীরা প্রতারিত হচ্ছে, দালালের খপ্পরে পড়ছে। কোনো চিকিৎসা না দিয়ে শুধু ‘রেফার্ড’ করে হাজার হাজার টাকা নষ্ট করানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রূপা রানী পাল বলেন, “আমাদের ডাক্তার সংকট চরমে। আমি সহ মোট তিনজন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চালানো হচ্ছে। এখানে ৩৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এই মুহুর্তে আমার সাথে আছে ডাঃ অঞ্জন এবং ডাঃ আজাদুল হক। তবে আরও চিকিৎসক পদায়ন করা হলে সেবার মান উন্নত হবে বলে মনে করছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ, বন্ধ থাকা বিভাগগুলো চালু করা, অ্যাম্বুলেন্স মেরামত ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৬৪ বার পড়া হয়েছে
    • How Is My Site?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
    ফজরসময়
    জোহরসময়
    আসরসময়
    মাগরিবসময়
    ইশাসময়
    সূর্যোদয় : সময় সূর্যাস্ত : সময়

    কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল কার্যত অচল চিকিৎসক সংকটে বন্ধ ডেন্টাল বিভাগ, রেডিওগ্রাফি, অপারেশন থিয়েটার; নষ্ট অ্যাম্বুলেন্স

    আপডেট সময় : ০৩:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

    মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) :
    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে চরম চিকিৎসক সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে ৩৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৩ জন। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডেন্টাল বিভাগ, রেডিওগ্রাফি, অপারেশন থিয়েটার বন্ধ হয়ে গেছে এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবাও দীর্ঘদিন ধরে অচল।
    কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নিয়মিত কর্মরত হলে তালিকা অনুযায়ী ১৬৮ জন বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করবেন। সে হিসেবে হাসপাতালের মোট জনবলের সংখ্যা নির্দিষ্ট নিয়মে নির্ধারিত হলে, কনসালট্যান্ট (বিভিন্ন বিভাগ), রেসিডেন্ট/মেডিকেল অফিসার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার। সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ। ল্যাব টেকনিশিয়ান, এক্স-রে/ইমেজিং টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট। ওয়ার্ড বয়/আয়া, ওয়ার্ড মাস্টার, ক্লিনার, ক্যাটারিং স্টাফ। ম্যানেজার, হিসাবরক্ষক, রিসেপশনিস্ট। ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানের জন্য ৩ শিফটে কাজ করবেন। চিকিৎসক সংকট থাকার কারনে ৩৪ জন ডাক্তার ২৫ জন স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনোলোজিস্ট, ওয়ার্ড বয় থেকে মালি পর্যন্ত বসে বসে সময় কাটাচ্ছেন ও বেতন সুবিধাদি ভোগ করছেন চিকিৎসা সেবা প্রদান ব্যতিত। অথচ খবরের অন্তরালে সরকারী ঔষধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সুবিধাদি লুটপাট হচ্ছে বলে এমন অভিযোগ উঠেছে রোগীদের পক্ষথেকে।
    সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন চিকিৎসক। এর বাইরে ডা. এ. এম. মুসাদ্দিক হোসাইন খান সপ্তাহে মাত্র দুই দিন রোগী দেখেন এবং ডা. গৌতম চক্রবর্তী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন বিধায় কালিগঞ্জে পূর্ণ সময় উপস্থিত থাকেন না। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ৩জন চিকিৎসকের।
    চিকিৎসক সংকটের কারণে হাসপাতালে আসা রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বিশেষ করে ইমার্জেন্সি বিভাগে স্ট্রোক ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী ভর্তি দেখিয়ে সাতক্ষীরা সদর বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা করছে। রোগীদের অভিযোগ, রেফার্ডের নামে সময় ক্ষেপণ করা হয়। এতে পথিমধ্যে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে পড়ে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
    অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশে সক্রিয় রয়েছে একটি দালাল চক্র। তারা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায় করছে, আবার অনেককে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিতে প্রলুব্ধ করছে। ফলে রোগীরা একদিকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
    শফিকুল ইসলাম নামে এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তার দেখানোর পর ওষুধ নিতে গেলে প্যারাসিটামল আর পেট কামড়ানোর ওষুধ ছাড়া কিছুই পাই না। ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই, নামে মাত্র সরকারি হাসপাতাল।” স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের এই বেহাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে কালিগঞ্জের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাতে কালিগঞ্জের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
    স্থানীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইব্রাহিম এ প্রতিনিধিকে বলেন, “সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কালিগঞ্জ হাসপাতালে ডাক্তার নেই। রোগীরা প্রতারিত হচ্ছে, দালালের খপ্পরে পড়ছে। কোনো চিকিৎসা না দিয়ে শুধু ‘রেফার্ড’ করে হাজার হাজার টাকা নষ্ট করানো হচ্ছে।
    এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রূপা রানী পাল বলেন, “আমাদের ডাক্তার সংকট চরমে। আমি সহ মোট তিনজন চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল চালানো হচ্ছে। এখানে ৩৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এই মুহুর্তে আমার সাথে আছে ডাঃ অঞ্জন এবং ডাঃ আজাদুল হক। তবে আরও চিকিৎসক পদায়ন করা হলে সেবার মান উন্নত হবে বলে মনে করছি।”
    এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ, বন্ধ থাকা বিভাগগুলো চালু করা, অ্যাম্বুলেন্স মেরামত ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।