1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
র‍‍্যাবের অভিযানে কৃষ্ণনগরের রেজাউল গাজী আটক কালিগঞ্জে পুকুরে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু মহান একুশ মানে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান: হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার শহীদ মিনারে কালিগঞ্জ সেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধা নিবেদন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা: তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন যাত্রা কালিগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী-পরবর্তী বর্ধিত সভা, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান, বহিষ্কৃতদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান কালিগঞ্জে মাদকাটি গ্রামে রাতে হামলা, আহত ১ সাতক্ষীরায় ‘লুক মেন সেলুন’-এর উদ্বোধন কালিগঞ্জে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা : অফিস দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষে আহত ৮ সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী রবিউল বাশার বিজয়ী হয়েছেন।

কালিগঞ্জ প্রচণ্ড শীত জেঁকে বসেছে, খেজুরের রস, গুড় পিঠা ঘিরে

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় জেঁকে বসেছে প্রচণ্ড শীত। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম। শীত এলেই এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও লোকজ সংস্কৃতিতে প্রাণ ফেরে খেজুরের রস, গুড় ও পিঠাকে ঘিরে।

উপজেলার নলতা, ভাড়াশিমলা, কুশলিয়া, বিষ্ণুপুর, দক্ষিণশ্রীপুর, মৌতলা, কৃষ্ণনগর, মথুরেশপুর, ধলবাড়িয়া, তারালী, চাম্পাফুল ও রতনপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ভোরের আগেই গাছিরা খেজুরগাছে উঠে হাঁড়ি নামান। রাতভর গাছে ঝরতে থাকা কাঁচা রসে ভরে ওঠে মাটির কলসি। সূর্য ওঠার আগেই সেই রস সংগ্রহ করে শুরু হয় গুড় তৈরির কাজ।

স্থানীয় গাছি রবিউল ইসলাম জানান, শীত যত বেশি হয়, রস তত মিষ্টি হয়। তবে কুয়াশা বেশি থাকলে কাজ করতে কষ্ট হয়। এই কয়েক মাসের আয়েই অনেক গাছির সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

সংগৃহীত কাঁচা রস গ্রামের বাড়ির উঠোন কিংবা খোলা মাঠে বড় কড়াইয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর রস ঘন হয়ে তৈরি হয় ঝরঝরে ও পাটালি গুড়। কালিগঞ্জের খাঁটি গুড়ের চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও এই গুড় যাচ্ছে সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

কালিগঞ্জ বাজারে গুড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “এই সময়ে গুড়ই আমাদের প্রধান পণ্য। ভালো মানের গুড় পাইকাররা আগেই বুকিং দিয়ে নিয়ে যায়।”

শীতের এই মৌসুমে গ্রামগুলোতে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। ভাপা পিঠা, চিতই, পুলি, দুধ চিতইসহ নানা ধরনের পিঠায় ব্যবহার হচ্ছে খেজুরের গুড়। অনেক নারী গৃহস্থালির পাশাপাশি পিঠা বানিয়ে স্থানীয় বাজার ও রাস্তার ধারে বিক্রি করছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কয়েক হাজার খেজুরগাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে শীতকালীন সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রস ও গুড় উৎপাদিত হয়। এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু পরিবার জড়িত।

তবে ঐতিহ্যবাহী এই পেশা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। গাছির সংখ্যা কমে যাওয়া, তরুণদের অনাগ্রহ এবং সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সুবিধার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও শীত এলেই কালিগঞ্জে খেজুরের রস ও গুড়কে ঘিরে যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়, তা এখনও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই কালিগঞ্জের মানুষ খেজুরের রস, পিঠা ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কুয়াশামাখা ভোরে গাছিদের ব্যস্ততা আর সন্ধ্যায় পিঠার আড্ডা মিলিয়ে শীতকাল এখানে শুধু ঋতু নয়, এক জীবন্ত সংস্কৃতি।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৮০ বার পড়া হয়েছে
    • How Is My Site?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
    ফজরসময়
    জোহরসময়
    আসরসময়
    মাগরিবসময়
    ইশাসময়
    সূর্যোদয় : সময় সূর্যাস্ত : সময়

    কালিগঞ্জ প্রচণ্ড শীত জেঁকে বসেছে, খেজুরের রস, গুড় পিঠা ঘিরে

    আপডেট সময় : ০৭:০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় জেঁকে বসেছে প্রচণ্ড শীত। ঘন কুয়াশা আর হাড় কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যেই শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম। শীত এলেই এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও লোকজ সংস্কৃতিতে প্রাণ ফেরে খেজুরের রস, গুড় ও পিঠাকে ঘিরে।

    উপজেলার নলতা, ভাড়াশিমলা, কুশলিয়া, বিষ্ণুপুর, দক্ষিণশ্রীপুর, মৌতলা, কৃষ্ণনগর, মথুরেশপুর, ধলবাড়িয়া, তারালী, চাম্পাফুল ও রতনপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ভোরের আগেই গাছিরা খেজুরগাছে উঠে হাঁড়ি নামান। রাতভর গাছে ঝরতে থাকা কাঁচা রসে ভরে ওঠে মাটির কলসি। সূর্য ওঠার আগেই সেই রস সংগ্রহ করে শুরু হয় গুড় তৈরির কাজ।

    স্থানীয় গাছি রবিউল ইসলাম জানান, শীত যত বেশি হয়, রস তত মিষ্টি হয়। তবে কুয়াশা বেশি থাকলে কাজ করতে কষ্ট হয়। এই কয়েক মাসের আয়েই অনেক গাছির সারা বছরের সংসার খরচ চলে।

    সংগৃহীত কাঁচা রস গ্রামের বাড়ির উঠোন কিংবা খোলা মাঠে বড় কড়াইয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর রস ঘন হয়ে তৈরি হয় ঝরঝরে ও পাটালি গুড়। কালিগঞ্জের খাঁটি গুড়ের চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও এই গুড় যাচ্ছে সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

    কালিগঞ্জ বাজারে গুড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, “এই সময়ে গুড়ই আমাদের প্রধান পণ্য। ভালো মানের গুড় পাইকাররা আগেই বুকিং দিয়ে নিয়ে যায়।”

    শীতের এই মৌসুমে গ্রামগুলোতে পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। ভাপা পিঠা, চিতই, পুলি, দুধ চিতইসহ নানা ধরনের পিঠায় ব্যবহার হচ্ছে খেজুরের গুড়। অনেক নারী গৃহস্থালির পাশাপাশি পিঠা বানিয়ে স্থানীয় বাজার ও রাস্তার ধারে বিক্রি করছেন, যা তাদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

    কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কয়েক হাজার খেজুরগাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে শীতকালীন সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রস ও গুড় উৎপাদিত হয়। এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু পরিবার জড়িত।

    তবে ঐতিহ্যবাহী এই পেশা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। গাছির সংখ্যা কমে যাওয়া, তরুণদের অনাগ্রহ এবং সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সুবিধার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও শীত এলেই কালিগঞ্জে খেজুরের রস ও গুড়কে ঘিরে যে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়, তা এখনও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই কালিগঞ্জের মানুষ খেজুরের রস, পিঠা ও গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কুয়াশামাখা ভোরে গাছিদের ব্যস্ততা আর সন্ধ্যায় পিঠার আড্ডা মিলিয়ে শীতকাল এখানে শুধু ঋতু নয়, এক জীবন্ত সংস্কৃতি।