
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করতে গিয়ে জুতা পেটা খেলেন কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নাশকতা মামলার আসামি শফিকুল ইসলাম। গত ১৬ মার্চ সোমবার বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিজের অপকর্ম ঢাকতে সংসদ সদস্যের কাছে গিয়েও মিথ্যাচার করে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়েছেন অভিযুক্ত এই শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তিনি নাকি ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন শিক্ষা অফিসারকে।
উপজেলা মাধ্যমিক (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম গত ১৬ মার্চ বেলা ৩টার দিকে কয়েকজন লোক নিয়ে তার অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি তার বর্ধিত বকেয়া বেতনের ফাইলে সই করার জন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা আইনি জটিলতার কথা বললে শফিকুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে ঘুষের প্রলোভন দেখিয়ে ফাইল ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিসের কর্মচারীরা তাকে জুতা পেটা করে অফিস থেকে বের করে দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের কাছ থেকে ডোনেশনের নামে ৮ লক্ষ এবং এমপিওভুক্তির জন্য ২ লক্ষ টাকা নিলেও আজও তার ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠাননি শফিকুল। উল্টো আরও ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করায় জালাল উদ্দিন গত ২৪ বছর ধরে বিনা বেতনে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
তথ্য বলছে, গত ১৩/০৬/২৫ তারিখে কালীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত ৯ নং নাশকতা মামলায় শফিকুল ইসলাম গত ২১/১২/২৫ তারিখে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাকে সাময়িক বরখাস্ত না করায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, একই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হলেও শফিকুলের ক্ষেত্রে রহস্যজনক নীরবতা পালন করা হচ্ছে।
শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে অপদস্থ হওয়ার পর শফিকুল ইসলাম স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের কার্যালয়ে গিয়ে কান্নাকাটি করে মিথ্যা অভিযোগ দেন। তবে নাশকতার মামলায় জেল খাটা এবং দুর্নীতির সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য তাকে তার কার্যালয় থেকে বের করে দেন।
এর আগে শফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা শ্যামনগর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছিল। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মইনুল হাসান খানের কাছে গিয়েও তিনি ফাইলে সই করাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্রতিনিধির নাম 

















