
ইন্টারন্যাশনাল ডেক্স :
একদিকে আলোচনার টেবিলে বসার আশ্বাস, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দ্বিমুখী অবস্থানে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ওয়াশিংটন থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি তেরেসা বো-এর পাঠানো তথ্যে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশাল সামরিক প্রস্তুতির চিত্র।
গত কয়েকদিন ধরেই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রায় ২,৫০০ জন মেরিন সেনা এবং তিনটি শক্তিশালী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে পাঠানো হয়েছে। এরা সবাই বিশেষ অপারেশনাল ফোর্স (Special Operations Forces), যারা মূলত অতর্কিত এবং জটিল অভিযানে পারদর্শী।
নতুন করে শোনা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’ (82nd Airborne Division)-কেও মোতায়েন করা হচ্ছে। এটি একটি ‘র্যাপিড রেসপন্স ইউনিট’, যারা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এই বিশেষ বাহিনীর উপস্থিতি নির্দেশ করছে যে বড় ধরনের কোনো অভিযানের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা চলছে যে, এই বিশাল বাহিনী সম্ভবত ইরানের খার্গ দ্বীপ (Kharg Island) দখলের বা অকেজো করার অভিযানে অংশ নেবে।
ট্রাম্প এই দ্বীপটিকে “জুয়েল অফ দ্য ক্রাউন” বা রাজমুকুটের মণি হিসেবে অভিহিত করেছেন, কারণ এখান থেকেই ইরান তাদের উৎপাদিত তেলের সিংহভাগ রপ্তানি করে। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপে সরাসরি সেনা পাঠায় (Boots on the Ground), তবে ইরানের সাথে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের সূচনা হবে, যা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি সিদ্ধান্ত।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে ইরানের সাথে আলোচনা চলছে, কিন্তু মাঠের চিত্র বলছে উল্টো কথা। যুদ্ধের হুমকি ও বাগাড়ম্বর বাড়ার পাশাপাশি সৈন্য সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটিই বড় প্রশ্ন— “এই যুদ্ধ আর কতদিন চলবে?”
প্রতিনিধির নাম 















