1. satnews24@satkhiranews24.com : নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাতক্ষীরা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ হাড়দ্দহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠিত কালিগঞ্জে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়: ফোন ধরেন না সাংবাদিকদের, ক্ষুব্ধ শিক্ষক-অভিভাবক সতেরো বছরের ছায়া : অনিয়মের উত্তরাধিকার ভাঙতে হলে জবাবদিহিই একমাত্র পথ কালিগঞ্জে সরকারি পুকুর সংলগ্ন ড্রেন সংস্কার কাজের উদ্বোধন, উপকৃত হবে ৪০০ পরিবার অবশেষে প্রত্যাহার কালিগঞ্জের সেই বিতর্কিত অধ্যক্ষ হুমায়ন কবীর: শিক্ষক বদলি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ? নাকি নতুন বানিজ্য! সম্পাদকীয়: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ও শিক্ষা খাতের সংকট কালিগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল হামলা মামলার আসামিসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার কালিগঞ্জ থানায় ককটেল বিষ্ফোরনে আহত শ্রমিক রফিকুলের পাশে দাঁড়ালেন ওসি শহিদুল ইসলাম ভদ্রখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, মোঃ জুলহক সরদার সভাপতি-সদস্য সচিব জেসমিন কাকুলী

কালিগঞ্জে ডা. শহিদুল আলম শেষ নির্বাচনী জনসভা-নারী ভোটাররাই হয়ে উঠলেন আশার আলো

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:০৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৭৬৩ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইশারাত আলী:

কেউ এসেছেন শিশুকে কোলে নিয়ে, কেউ আবার ঘরের কাজ ফেলে। কারও মাথার ওড়নায় রোদের ছাপ, কারও চোখে দীর্ঘদিনের না-বলা কথার ভার। তবুও তারা এসেছেন। কারণ একটাই-ভোট। নিজের সিদ্ধান্তের অধিকার।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার শহিদুল আলমের শেষ নির্বাচনী জনসভায় নারীদের যে ঢল নেমেছিল, তা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না-ওটা ছিল নীরব প্রতিবাদ, নীরব প্রত্যাশা আর বিশ্বাসের এক বিশাল প্রকাশ। কারন তাদের স্বামী, ভাই, বোনরা বহিস্কার হয়েছে বিএনপি থেকে। গরীবের ডাঃ শহিদুল আলমের সাথে থাকার জন্য।

সভাস্থলে দাঁড়ালে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল-এই জনসমুদ্রের বড় অংশই নারী। কেউ প্রথমবার ভোট দেবেন, কেউ আবার বহু নির্বাচনের সাক্ষী। বয়সের ভিন্নতা থাকলেও তাদের চোখে ছিল একই প্রশ্ন-“এইবার কি সত্যিই কিছু বদলাবে?” তাদের প্রত্যাশা শহিদুল আলম তার স্বামীর চিকিৎসা দিয়ে জীবন ফিরিয়েছেন। তার স্বামী যখন জেলখানায় ছিল তখন বাজার করে দিয়েছেন। মামলার খরচ দিয়েছেন।

সুফিয়া খাতুন নামের এক বৃদ্ধা নারী, কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “আমার জীবনে অনেক ভোট দেখছি বাবা। কিন্তু উনি ডাক্তার মানুষ-অসুখে গেলে ফিরিয়ে দেননি। তাই এবার মন থেকে ভোট দিতে চাই।” আমরা তার কাছে ঋণি।

আরেক তরুণী সোনিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কথা বলি না বলে মনে হয় আমাদের কিছু নেই। কিন্তু ভোটের দিন আমরাই ঠিক করি কাকে জেতাব।” এবার আমাদের সুযোগ হয়েছে ডাঃ শহিদুল আলমকে ভোট দেওয়ার। আমরা তাকে ভোট দেব কারন আমরা তার কাছে ঋণি।

ডা. শহিদুল আলম যখন বক্তব্য রাখতে দাঁড়ালেন, তখন ভিড় নিস্তব্ধ। তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন,

“আপনারা শুধু ভোটার নন, আপনারাই এই সমাজের ভিত্তি। আপনাদের সম্মান আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অঙ্গীকার।” আপনারা সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট কেন্দ্রে যাবেন। মজলুমের পক্ষে ভোট দেবেন।

এই কথাগুলো যেন অনেক নারীর বুকের ভেতরের না-বলা কথার সঙ্গে মিলে গেল। কারও চোখে জল, কারও মুখে মৃদু হাসি। অনেকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মঞ্চের দিকে। তারা তার কথা শুনেছে কিন্তু এবার প্রথম দেখলো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালিগঞ্জে নারী ভোটারদের এই আবেগী ও সচেতন উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুটবল প্রতীকে নারীদের সমর্থন এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। যা অন্য রাজনৈতিক দলের মাথা ভার করে দিয়েছে।

সভা শেষ হলেও অনেক নারী তখনো বসে ছিলেন। হয়তো বক্তব্য শোনার জন্য নয়-বরং এই অনুভূতিটা কিছুক্ষণ ধরে রাখার জন্য যে, এইবার তাদের কণ্ঠস্বরও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ ডুবে যাচ্ছিল পশ্চিম আকাশে। আর কালিগঞ্জের মাটিতে রয়ে গেল হাজারো নারীর নিঃশব্দ অঙ্গীকার-ভোট শুধু কাগজে নয়, এবার বদলাবে ভবিষ্যৎ। তাই ডাঃ শহিদুল আলমের ফুটবল প্রতীক তাদের আশার আলো।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিগঞ্জে রথযাত্রা ঘিরে বিএনপির ‘কঠোর সতর্কতা’: নাশকতা রুখতে মাঠে থাকার নির্দেশ

কালিগঞ্জে ডা. শহিদুল আলম শেষ নির্বাচনী জনসভা-নারী ভোটাররাই হয়ে উঠলেন আশার আলো

আপডেট সময় : ১১:১৬:০৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী:

কেউ এসেছেন শিশুকে কোলে নিয়ে, কেউ আবার ঘরের কাজ ফেলে। কারও মাথার ওড়নায় রোদের ছাপ, কারও চোখে দীর্ঘদিনের না-বলা কথার ভার। তবুও তারা এসেছেন। কারণ একটাই-ভোট। নিজের সিদ্ধান্তের অধিকার।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার শহিদুল আলমের শেষ নির্বাচনী জনসভায় নারীদের যে ঢল নেমেছিল, তা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না-ওটা ছিল নীরব প্রতিবাদ, নীরব প্রত্যাশা আর বিশ্বাসের এক বিশাল প্রকাশ। কারন তাদের স্বামী, ভাই, বোনরা বহিস্কার হয়েছে বিএনপি থেকে। গরীবের ডাঃ শহিদুল আলমের সাথে থাকার জন্য।

সভাস্থলে দাঁড়ালে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল-এই জনসমুদ্রের বড় অংশই নারী। কেউ প্রথমবার ভোট দেবেন, কেউ আবার বহু নির্বাচনের সাক্ষী। বয়সের ভিন্নতা থাকলেও তাদের চোখে ছিল একই প্রশ্ন-“এইবার কি সত্যিই কিছু বদলাবে?” তাদের প্রত্যাশা শহিদুল আলম তার স্বামীর চিকিৎসা দিয়ে জীবন ফিরিয়েছেন। তার স্বামী যখন জেলখানায় ছিল তখন বাজার করে দিয়েছেন। মামলার খরচ দিয়েছেন।

সুফিয়া খাতুন নামের এক বৃদ্ধা নারী, কাঁপা কণ্ঠে বলেন, “আমার জীবনে অনেক ভোট দেখছি বাবা। কিন্তু উনি ডাক্তার মানুষ-অসুখে গেলে ফিরিয়ে দেননি। তাই এবার মন থেকে ভোট দিতে চাই।” আমরা তার কাছে ঋণি।

আরেক তরুণী সোনিয়া খাতুন বলেন, “আমরা কথা বলি না বলে মনে হয় আমাদের কিছু নেই। কিন্তু ভোটের দিন আমরাই ঠিক করি কাকে জেতাব।” এবার আমাদের সুযোগ হয়েছে ডাঃ শহিদুল আলমকে ভোট দেওয়ার। আমরা তাকে ভোট দেব কারন আমরা তার কাছে ঋণি।

ডা. শহিদুল আলম যখন বক্তব্য রাখতে দাঁড়ালেন, তখন ভিড় নিস্তব্ধ। তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন,

“আপনারা শুধু ভোটার নন, আপনারাই এই সমাজের ভিত্তি। আপনাদের সম্মান আর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অঙ্গীকার।” আপনারা সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট কেন্দ্রে যাবেন। মজলুমের পক্ষে ভোট দেবেন।

এই কথাগুলো যেন অনেক নারীর বুকের ভেতরের না-বলা কথার সঙ্গে মিলে গেল। কারও চোখে জল, কারও মুখে মৃদু হাসি। অনেকে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মঞ্চের দিকে। তারা তার কথা শুনেছে কিন্তু এবার প্রথম দেখলো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালিগঞ্জে নারী ভোটারদের এই আবেগী ও সচেতন উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ফুটবল প্রতীকে নারীদের সমর্থন এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। যা অন্য রাজনৈতিক দলের মাথা ভার করে দিয়েছে।

সভা শেষ হলেও অনেক নারী তখনো বসে ছিলেন। হয়তো বক্তব্য শোনার জন্য নয়-বরং এই অনুভূতিটা কিছুক্ষণ ধরে রাখার জন্য যে, এইবার তাদের কণ্ঠস্বরও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ ডুবে যাচ্ছিল পশ্চিম আকাশে। আর কালিগঞ্জের মাটিতে রয়ে গেল হাজারো নারীর নিঃশব্দ অঙ্গীকার-ভোট শুধু কাগজে নয়, এবার বদলাবে ভবিষ্যৎ। তাই ডাঃ শহিদুল আলমের ফুটবল প্রতীক তাদের আশার আলো।