1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ ট্রাম্পের চরমসীমার মুখে পাকিস্তান-প্রণীত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জ্বালানী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত একটি প্রস্তুতি থাকতে হবে কালিগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার : জনমনে আতঙ্ক, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে প্রক্ষেপক হামলা: নিহত ১ সাতক্ষীরার তিন উপজেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা: জনজীবন ও কৃষিতে বিশেষ নির্দেশনা কালিগঞ্জে কলেজ অধ্যক্ষ ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত-নিয়োগ বাণিজ্যর অবসান মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা: চীন কি হবে নতুন ‘গ্যারান্টর’? দুবাইয়ে হামলায় ৪ এশীয় নাগরিক আহত লেবাননে ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত, ইসফাহানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ

কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে
মোঃ ইশারাত আলী : 
আজ ৬ এপ্রিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ফিরে এলেও, স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে কালিগঞ্জের খেলার মাঠের সেই ধুলো ওড়ানো ৯০-এর দশক। সে এক অনন্য সময় ছিল, যখন কালিগঞ্জের আকাশ-বাতাস মুখরিত থাকতো ফুটবল আর ক্রিকেটের উন্মাদনায়। সকালে ক্রিকেটের ব্যাটে-বলে লড়াই, আর বিকেলে ফুটবল মাঠে ঘাম ঝরানো-এটাই ছিল তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের প্রাণস্পন্দন।
কঁচিকাঁচা ক্লাব ও একঝাঁক প্রতিভা :
স্মৃতির জানালায় উঁকি দিলে প্রথমেই মনে পড়ে ১৯৮৮ সালের সেই কঁচিকাঁচা ক্লাবের কথা। কালিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কারিগর ছিল এই ক্লাবটি। রিজন ভাইয়ের মতো দক্ষ নেতার অধীনে মাঠ কাঁপাতেন মোজাফ্ফারসহ আরও অনেক লড়াকু ফুটবলার। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে, যখন ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অসংখ্য ম্যাচে দলের হয়ে লড়েছি।
কালিগঞ্জের ক্রীড়া মানচিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে আরও অনেক ক্লাব। কালিগঞ্জ সদর ক্লাব, ডিএমসি ক্লাব, শ্রীকলা অনির্বাণ, পিডিকে, রতনপুর ইউনাইটেড, কুশলিয়া কচমচ ক্লাব, উত্তর কালিগঞ্জ ক্রীড়া একাডেমী থেকে শুরু করে বিটিজিআর-প্রতিটি সংগঠনের অবদান অনস্বীকার্য। মাঠের বাঁশিতে সুর তুলতেন জাকির রেফারি, আর তার সহকারী হিসেবে লাইন্সম্যানের ভূমিকায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতেন বাচ্চু দাদা। আজ যখন ব্যানারে বাচ্চু দাদাকে দেখি, তখন সেই ৯০ দশকের মাঠের দৃশ্যগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ইকবাল আলম বাবলু ফিফা ব্যাজ ধারী রেফারী, মোমনে স্যার তার সহকারী রেফারী হিসেবে আজও পতাকা হাতে লাইনে দৌড়াচ্ছেন।
কারিগর ও সংগঠকদের অবদান :
খেলোয়াড় তৈরির পেছনে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সংগঠক। ইন্টার-স্কুল পর্যায়ে বারেক স্যার ও মোবারেক স্যারের অবদান ভোলার মতো নয়। ক্লাব পর্যায়ে আব্দুল হাকিম, আহম্মদ চেয়ারম্যান, গাজী খোরশেদ আলম এবং গিয়াসউদ্দীন সাহেবদের মতো মানুষেরা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিয়েছেন। ডিকেএমএল-এর মোবারেক স্যার এখনো আমাদের মাঝে জীবিত আছেন, যা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
জাতীয় পর্যায়ের তারকা ও বর্তমান প্রত্যাশা :
কালিগঞ্জের মাটি থেকে উঠে এসেছেন খালেক ভাই, খোকন ভাই, ডাবলু ভাই, লালন দাদা, এছহাক ভাই, রউফ ভাই, করিম ভাই, ওয়াসিম দাদা, গোবিন্দ দাদা, রেজাউল, তাপস, দেবেশ দাদা, নূরুল হক, মন্টু, মোজাফ্ফার, আঙ্গুর ও লিটনের মতো দক্ষ আরও অনেক খেলোয়াড়রা। তাদের অনেকেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কালিগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করেছেন। আজ ক্রীড়া দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে যদি তারা মাঠে উপস্থিত থাকতেন, তবে সত্যিই এক অসাধারণ পরিবেশের সৃষ্টি হতো।
উপসংহার :
কালিগঞ্জের ফুটবলের যে গৌরবময় ইতিহাস, তা আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের অবদান অপরিসীম। তবে একটি আক্ষেপ থেকেই যায়-যদি আমাদের সেই সময়ের অভিজ্ঞ প্রাক্তন খেলোয়াড়রা বর্তমানের ক্রীড়া সংগঠনে আরও জোরালোভাবে অবদান রাখতেন, তবে কালিগঞ্জ থেকে আরও অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হওয়া সম্ভব হতো। আজকের ব্যানার খেলোয়ার ছাড়া বেমানান।
আজকের এই ক্রীড়া দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, মাঠের সেই সোনালী দিনগুলো আবার ফিরে আসুক, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে কালিগঞ্জের জয়গান ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র।
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ

কালিগঞ্জের মাঠ কাঁপানো সেই সোনালী দিন : ক্রীড়া দিবসের স্মৃতিচারণ

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ ইশারাত আলী : 
আজ ৬ এপ্রিল, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ফিরে এলেও, স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে কালিগঞ্জের খেলার মাঠের সেই ধুলো ওড়ানো ৯০-এর দশক। সে এক অনন্য সময় ছিল, যখন কালিগঞ্জের আকাশ-বাতাস মুখরিত থাকতো ফুটবল আর ক্রিকেটের উন্মাদনায়। সকালে ক্রিকেটের ব্যাটে-বলে লড়াই, আর বিকেলে ফুটবল মাঠে ঘাম ঝরানো-এটাই ছিল তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের প্রাণস্পন্দন।
কঁচিকাঁচা ক্লাব ও একঝাঁক প্রতিভা :
স্মৃতির জানালায় উঁকি দিলে প্রথমেই মনে পড়ে ১৯৮৮ সালের সেই কঁচিকাঁচা ক্লাবের কথা। কালিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কারিগর ছিল এই ক্লাবটি। রিজন ভাইয়ের মতো দক্ষ নেতার অধীনে মাঠ কাঁপাতেন মোজাফ্ফারসহ আরও অনেক লড়াকু ফুটবলার। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে, যখন ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অসংখ্য ম্যাচে দলের হয়ে লড়েছি।
কালিগঞ্জের ক্রীড়া মানচিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে আরও অনেক ক্লাব। কালিগঞ্জ সদর ক্লাব, ডিএমসি ক্লাব, শ্রীকলা অনির্বাণ, পিডিকে, রতনপুর ইউনাইটেড, কুশলিয়া কচমচ ক্লাব, উত্তর কালিগঞ্জ ক্রীড়া একাডেমী থেকে শুরু করে বিটিজিআর-প্রতিটি সংগঠনের অবদান অনস্বীকার্য। মাঠের বাঁশিতে সুর তুলতেন জাকির রেফারি, আর তার সহকারী হিসেবে লাইন্সম্যানের ভূমিকায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতেন বাচ্চু দাদা। আজ যখন ব্যানারে বাচ্চু দাদাকে দেখি, তখন সেই ৯০ দশকের মাঠের দৃশ্যগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে। ইকবাল আলম বাবলু ফিফা ব্যাজ ধারী রেফারী, মোমনে স্যার তার সহকারী রেফারী হিসেবে আজও পতাকা হাতে লাইনে দৌড়াচ্ছেন।
কারিগর ও সংগঠকদের অবদান :
খেলোয়াড় তৈরির পেছনে পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেছেন একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও সংগঠক। ইন্টার-স্কুল পর্যায়ে বারেক স্যার ও মোবারেক স্যারের অবদান ভোলার মতো নয়। ক্লাব পর্যায়ে আব্দুল হাকিম, আহম্মদ চেয়ারম্যান, গাজী খোরশেদ আলম এবং গিয়াসউদ্দীন সাহেবদের মতো মানুষেরা নিঃস্বার্থভাবে শ্রম দিয়েছেন। ডিকেএমএল-এর মোবারেক স্যার এখনো আমাদের মাঝে জীবিত আছেন, যা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।
জাতীয় পর্যায়ের তারকা ও বর্তমান প্রত্যাশা :
কালিগঞ্জের মাটি থেকে উঠে এসেছেন খালেক ভাই, খোকন ভাই, ডাবলু ভাই, লালন দাদা, এছহাক ভাই, রউফ ভাই, করিম ভাই, ওয়াসিম দাদা, গোবিন্দ দাদা, রেজাউল, তাপস, দেবেশ দাদা, নূরুল হক, মন্টু, মোজাফ্ফার, আঙ্গুর ও লিটনের মতো দক্ষ আরও অনেক খেলোয়াড়রা। তাদের অনেকেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কালিগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করেছেন। আজ ক্রীড়া দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে যদি তারা মাঠে উপস্থিত থাকতেন, তবে সত্যিই এক অসাধারণ পরিবেশের সৃষ্টি হতো।
উপসংহার :
কালিগঞ্জের ফুটবলের যে গৌরবময় ইতিহাস, তা আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে প্রাক্তন খেলোয়াড়দের অবদান অপরিসীম। তবে একটি আক্ষেপ থেকেই যায়-যদি আমাদের সেই সময়ের অভিজ্ঞ প্রাক্তন খেলোয়াড়রা বর্তমানের ক্রীড়া সংগঠনে আরও জোরালোভাবে অবদান রাখতেন, তবে কালিগঞ্জ থেকে আরও অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হওয়া সম্ভব হতো। আজকের ব্যানার খেলোয়ার ছাড়া বেমানান।
আজকের এই ক্রীড়া দিবসে আমাদের প্রত্যাশা, মাঠের সেই সোনালী দিনগুলো আবার ফিরে আসুক, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে কালিগঞ্জের জয়গান ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র।