1. satnews24@satkhiranews24.com : sat24admin :
সাতক্ষীরা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
স্পেন ছাড়ল মার্কিন যুদ্ধবিমান, ইরানে হামলায় ঘাঁটি ব্যবহারে মানা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও বাংলাদেশ: প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কালিগঞ্জে ব্যাপক ভুমিকম্পন অনুভুত কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ-এ মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা কালিগঞ্জে এক যুগেও মেলেনি বিচার: জোড়া খুনের স্মরণ সভায় স্বজনদের ক্ষোভ কালিগঞ্জে এমপি রবিউল বাশারের দিনব্যাপী দপ্তর পরিদর্শন, স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রশাসনের আহ্বান কালিগঞ্জে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফার-এর মৃত্যুতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার গভীর শোক প্রকাশ

মহেশখালীর সৌন্দর্যে আদিনাথ মন্দির

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ ইশারাত আলী :

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার বুকে সাগরবেষ্টিত এক অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। পাহাড়, সমুদ্র, সবুজ বন আর লোকজ সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দ্বীপের সবচেয়ে পবিত্র ও দর্শনীয় স্থান হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির।

ভোরের আলোয় যখন মহেশখালীর পথে যাত্রা শুরু হয়, তখন নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ যেন এক অদ্ভুত মায়ায় ডেকে নিয়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বন, দূরে বিস্তৃত সমুদ্র আর নিচে জনপদের দৃশ্য মনকে করে তোলে প্রশান্ত। মৈনাক পাহাড়ের প্রায় ২৮৮ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে দেখা মেলে প্রাচীন আদিনাথ মন্দিরের—যেন প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার এক মহামিলনস্থল।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আদিনাথ মন্দিরের প্রচলন ত্রেতাযুগ থেকে। রামায়ণ ও বিভিন্ন পুরাণে এই স্থানের উল্লেখ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব শিবের নামে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির মহেশখালীর নামকরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। যদিও বর্তমান কাঠামোর কিছু অংশ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত, তবুও এর প্রতিটি ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও আস্থার ছোঁয়া।

মন্দিরটি তিনটি অংশে বিভক্ত। ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে দুটি পূজা কক্ষ—একটিতে বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অন্যটিতে অষ্টভূজা দুর্গা মূর্তি। স্থাপত্যে তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্ট; পদ্ম, কলস, চক্র ও ত্রিশূলের মতো প্রতীক মন্দিরকে দিয়েছে এক রহস্যময় গাম্ভীর্য।

প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে এখানে বসে ১৩ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী আসেন আদিনাথের দর্শনে। মেলার সময় পাহাড়জুড়ে উৎসবের রং, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর ভক্তদের প্রার্থনায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

আদিনাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও মানুষের বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকালে মনে হয়—এখানে সময় থেমে গেছে, আর যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থা এই মন্দিরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

মহেশখালী ভ্রমণ যেন আদিনাথ মন্দির দর্শন ছাড়া অসম্পূর্ণ। প্রকৃতি, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যারা বেরিয়ে পড়েন, তাদের জন্য আদিনাথ মন্দির নিঃসন্দেহে এক অনন্য গন্তব্য

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৫৩ বার পড়া হয়েছে
    • How Is My Site?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
    ফজরসময়
    জোহরসময়
    আসরসময়
    মাগরিবসময়
    ইশাসময়
    সূর্যোদয় : সময় সূর্যাস্ত : সময়

    মহেশখালীর সৌন্দর্যে আদিনাথ মন্দির

    আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

    মোঃ ইশারাত আলী :

    বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কক্সবাজার জেলার বুকে সাগরবেষ্টিত এক অনন্য দ্বীপ মহেশখালী। পাহাড়, সমুদ্র, সবুজ বন আর লোকজ সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দ্বীপের সবচেয়ে পবিত্র ও দর্শনীয় স্থান হলো মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির।

    ভোরের আলোয় যখন মহেশখালীর পথে যাত্রা শুরু হয়, তখন নীল আকাশ আর সাগরের ঢেউ যেন এক অদ্ভুত মায়ায় ডেকে নিয়ে যায়। পাহাড়ি পথ বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ বন, দূরে বিস্তৃত সমুদ্র আর নিচে জনপদের দৃশ্য মনকে করে তোলে প্রশান্ত। মৈনাক পাহাড়ের প্রায় ২৮৮ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে দেখা মেলে প্রাচীন আদিনাথ মন্দিরের—যেন প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার এক মহামিলনস্থল।

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আদিনাথ মন্দিরের প্রচলন ত্রেতাযুগ থেকে। রামায়ণ ও বিভিন্ন পুরাণে এই স্থানের উল্লেখ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব শিবের নামে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির মহেশখালীর নামকরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। যদিও বর্তমান কাঠামোর কিছু অংশ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত, তবুও এর প্রতিটি ইট-পাথরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও আস্থার ছোঁয়া।

    মন্দিরটি তিনটি অংশে বিভক্ত। ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে দুটি পূজা কক্ষ—একটিতে বাণলিঙ্গ শিবমূর্তি এবং অন্যটিতে অষ্টভূজা দুর্গা মূর্তি। স্থাপত্যে তান্ত্রিক প্রভাব স্পষ্ট; পদ্ম, কলস, চক্র ও ত্রিশূলের মতো প্রতীক মন্দিরকে দিয়েছে এক রহস্যময় গাম্ভীর্য।

    প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে এখানে বসে ১৩ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থী আসেন আদিনাথের দর্শনে। মেলার সময় পাহাড়জুড়ে উৎসবের রং, ঢাক-ঢোলের শব্দ আর ভক্তদের প্রার্থনায় পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

    আদিনাথ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও মানুষের বিশ্বাসের এক অনন্য প্রতীক। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকালে মনে হয়—এখানে সময় থেমে গেছে, আর যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থা এই মন্দিরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।

    মহেশখালী ভ্রমণ যেন আদিনাথ মন্দির দর্শন ছাড়া অসম্পূর্ণ। প্রকৃতি, ইতিহাস আর আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে যারা বেরিয়ে পড়েন, তাদের জন্য আদিনাথ মন্দির নিঃসন্দেহে এক অনন্য গন্তব্য