কালিগঞ্জে তেলের কৃত্রিম সংকটের অপচেষ্টা, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

মোঃ ইশারাত আলী
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, কেউ যদি অসাধু উদ্দেশ্যে তেলের সংকট তৈরি করে বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, সম্প্রতি কালিগঞ্জে একটি চক্র জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরই মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ইউএনও তানিয়া আক্তার বলেন, “তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করতে হবে। কেউ যদি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত লাভের চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুদ করার প্রবণতা বন্ধ করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
বিপিসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জ্বালানি তেলের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মহল জ্বালানি তেলের মজুদ সংকট নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুদ করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিপিসি জানায়, দেশের বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পাঠানো হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরবরাহ সুশৃঙ্খল রাখতে গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে-মোটরসাইকেল : ২ লিটার, প্রাইভেটকার : ১০ লিটার, মাইক্রোবাস/পিকআপ ২০-২৫ লিটার, বাস ৭০-৮০ লিটার, ট্রাক ২০০-২২০ লিটার
এছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেল বিক্রির সময় তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ প্রদান, মজুদ ও বিক্রির তথ্য সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন বলছে, গুজব বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।








