কালিগঞ্জে গরু পেটানোকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত তাণ্ডব, রহিম-করিম গ্যাংয়ের সন্ত্রসী হামলায় নারীসহ ৪ জন আশঙ্কাজনক

কালিগঞ্জ-সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে গরু পেটানোকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হলো ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুর রহিম, আব্দুল করিম ও তাদের মাদকসেবী ছেলেদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলায় নারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি গরু দড়ি ছিঁড়ে পাশের ক্ষেতে ঢুকে পড়লে ক্ষিপ্ত হয়ে অপর পক্ষ গরুটিকে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল করিম (৫৫), তার ছেলে ইমরান (৩৫), ফরিদ হোসেন (২৭) এবং আব্দুর রহিম (৫০), তার ছেলে ইয়াসিন (২৫), মহসিন (২৩)সহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে লাঠি, রড, দা, কোদাল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সন্ত্রাসীরা মোমিন আলী (৬১), ছকিনা খাতুন (৪৮), মাসুম বিল্লাহ (২৬), সাইদুর রহমান (৪৪) ও হালিমা খাতুন (৫০) কে হত্যার উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে নাহিদুজ্জামান নয়ন ও রায়হান হোসেন কেও নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো কবরস্থান এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং কয়েকজন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকেই পুরো শ্রীকলা গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রহিম-করিম গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক সেবন ও বিক্রির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। ফরিদ হোসেন, ইয়াসিনসহ কয়েকজন প্রকাশ্যে মাদক কারবারে জড়িত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা এতদিন আইনের আওতার বাইরে ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
প্রত্যক্ষদর্শী রেজোয়ান হোসেন বলেন,“এরা বারবার এমন হামলা করে। একাধিক মামলা থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের নীরবতা আরও বড় অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।”
অভিযোগকারী ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবন্ধী পিতা মোমিন আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখনই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে।”
শ্রীকলা গ্রামবাসী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রহিম-করিম ও তাদের সন্ত্রাসী ছেলেদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









