মোঃ ইশারাত আলী:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার ( মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল হাসান খান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার সাথীর যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে কালিগঞ্জ সার্জিক্যাল ক্লিনিককে ১৫ হাজার টাকা এবং ঝর্ণা ক্লিনিককে হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটির লাইসেন্সের মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া অভিযানের সময় কোনো ডিউটি ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বেডের অনুমোদনের বিপরীতে একটি ক্লিনিকে তিনজন চিকিৎসক ছয়জন প্রশিক্ষিত নার্স থাকার কথা থাকলেও অভিযানের সময় কাউকেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি। এছাড়া সি ক্যাটাগরির ল্যাব থাকার কথা থাকলেও সেখানে বি ক্যাটাগরির যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) পরিবেশও ছিল অত্যন্ত নাজুক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসা সেবার নামে অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রমরমা ব্যবসা চলছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত নার্স নেই। আয়া ওয়ার্ডবয়দের দিয়েই রোগীর সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কালিগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ১৬টি ক্লিনিক ১৭টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তবে এর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স প্রয়োজনীয় জনবল নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কিছু ক্লিনিকে চিকিৎসক ছাড়াই অপারেশন করা হয়। পাশাপাশি দালাল গ্রাম্য ডাক্তারদের মাধ্যমে কমিশনের ভিত্তিতে রোগী সংগ্রহ করা হয় এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।

বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার সাথী বলেন, কালিগঞ্জ হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে প্রশাসন কাজ করছে। চিকিৎসক ছাড়া অপারেশনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আমাদের নজরে রয়েছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এসব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে হাসপাতাল এলাকায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দুপুর ১টার আগে প্রবেশ করতে পারবেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন ক্লিনিক মালিক নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।

বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব অনুমোদনহীন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এদিকে সচেতন মহল অবৈধ মানহীন ক্লিনিকডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।