মোঃ ইশারাত আলী :

বাংলাদেশ তার বৈদেশিক আয়ের একটি বড় অংশ এবং জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নিচের ৫টি খাতে বড় প্রভাব পড়বে:

. জনশক্তি রপ্তানি রেমিট্যান্স প্রবাহ

বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৭০৮০%) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতে কর্মরত।

বিপত্তি: যুদ্ধ যদি এসব দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তবে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে। অনেককে দেশে ফিরে আসতে হতে পারে, যা রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নামাবে।সংকট: যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নতুন করে কর্মী পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা বেকারত্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

. জ্বালানি তেলের মূল্য বিদ্যুৎ সংকট

বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।বিদ্যুৎ উৎপাদন: জ্বালানির অভাব ও উচ্চমূল্যের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেবে, ফলে ঘনঘন লোডশেডিং এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

. খাদ্যদ্রব্য যাতায়াত খরচ

জ্বালানির দাম বাড়লে তার চেইন রিঅ্যাকশন সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে:

পরিবহন ভাড়া: বাস, ট্রাক ও নৌযানের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। সার কৃষি: আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়লে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

. তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাধা

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক (RMG)

পরিবহন রুট: লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খাল অনিরাপদ হয়ে পড়লে ইউরোপ ও আমেরিকায় পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ (Shipping Freight) লাগবে।চাহিদা হ্রাস: বৈশ্বিক মন্দার কারণে পশ্চিমা দেশগুলো যদি খরচ কমিয়ে দেয়, তবে বাংলাদেশি পোশাকের ক্রয়াদেশ বা অর্ডার কমে যেতে পারে।

. মুদ্রাস্ফীতি ডলার সংকট

ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমে যেতে পারে। জ্বালানি ও পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ডলার খরচ হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য পদক্ষেপ :

দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি (LNG) চুক্তি নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে দ্রুত মনোযোগ দেওয়া।

অভ্যন্তরীণ মজুত বাড়ানো এবং বিকল্প বাজার (যেমন: দক্ষিণ আমেরিকা বা এশিয়া) থেকে আমদানির চেষ্টা করা।

যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে থাকা প্রবাসীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ডেস্ক খোলা এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা রাখা।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই যুদ্ধ একটি বড় ধরণের “ইকোনমিক শক”। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের উচিত এখনই একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি অর্থনৈতিক কমিটি গঠন করা।