মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সাবেক উপ-প্রকৌশলী এবং ‘রুবাইয়াত-ই-খৈয়াম’-এর অনুবাদক আলহাজ্ব শামসুদ্দিন গাজী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্ট্রা ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের পানিয়া গ্রামে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর পিতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

কর্মজীবনে শামসুদ্দিন গাজী উপ-প্রকৌশলী হিসেবে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। ফুলতলা, ফকিরহাট ও বাগেরহাটে কর্মরত থাকার পর সর্বশেষ সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর জীবনে তিনি সাহিত্যচর্চায় নিজেকে নিবেদিত করেন। উপন্যাস, উপন্যাসিকা ও গল্প রচনার পাশাপাশি সাহিত্য অনুবাদেও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে পারস্যের বিখ্যাত কবি ওমর খৈয়ামের কাব্যগ্রন্থ ‘রুবাইয়াত-ই-খৈয়াম’-এর বাংলা অনুবাদ। সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি এলাকায় একজন সাহিত্যপ্রেমী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

শনিবার বাদ মাগরিব উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের পানিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন গুনাকরকাটি খায়েরিয়া আজিজিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক আব্দুল মান্নান আজিজী। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মরহুমের ছেলে ও কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহাবুবুর রহমান, রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আল রাজি টোকন, কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মো. আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী, সাহিত্যপ্রেমী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। জানাজায় বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সাহিত্যপ্রেমী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।