মোঃ ইশারাত আলী :

সাতক্ষীরার বিতর্কিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘বুশরা গ্রুপ’-এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানতের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, জমানো টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী গ্রাহক ও পাওনাদারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা জিডি করার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে সাতক্ষীরাসহ আশপাশের এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সমবায় সমিতির আদলে অধিক মুনাফা ও লোভনীয় অফারের ফাঁদ পেতে বুশরা গ্রুপ সাতক্ষীরাসহ আশপাশের জেলার হাজার হাজার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে। শিক্ষক, দিনমজুর, প্রবাসীর স্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ভবিষ্যতের শেষ সম্বল ও সঞ্চয় এই প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন।

নির্দিষ্ট সময় পর গ্রাহকরা তাদের জমানো টাকা তুলতে গেলে টালবাহানা শুরু করে গ্রুপের কর্ণধাররা। একপর্যায়ে গ্রাহকদের হাতে দেওয়া মুনাফা ও মূল টাকার চেকগুলো ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় তা বাউন্স হয়। পাওনা টাকা চাইতে গেলে বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তাদের সহযোগীরা উল্টো গ্রাহকদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন।

ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে গণমাধ্যমের কাছে সাতক্ষীরার আলিপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চাপাডাঙ্গা গ্রামের ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম মেম্বর আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা আমাদের পরিবারের সারা জীবনের জমানো কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে-এটি কোন যুক্তিতে?”

কালিগঞ্জের রোজিনা খাতুন জানান, “আমি ও আমার পরিবারসহ আশপাশের গ্রাহকদের বুশরা গ্রুপের কাছে প্রায় ১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘুরেও তারা আমাদের টাকা দিচ্ছে না।”

সৌদি প্রবাসী ইউসুফ গাজী বলেন, “আমরা প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে জমানো টাকা তৈরি করেছি, তা শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জের ম্যানেজার মোফাজ্জেলের মাধ্যমে বুশরা গ্রুপে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু আজ আমরা আমাদের সেই আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছি না।”

নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং পাওনাদারদের কণ্ঠরোধ করতে বুশরা গ্রুপ উল্টো থানায় অভিযোগ বা জিডি করার পথ বেছে নিয়েছে। প্রতারিত সাধারণ মানুষ যখন তাদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছেন, তখনই প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আরও কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জানা গেছে, এর আগে চরম এই প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে কালিগঞ্জের বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন। তবে এতকিছুর পরও দৃশ্যমান কোনো জোরালো পদক্ষেপ বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এহেন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে বুশরা গ্রুপের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং সাধারণ মানুষের আত্মসাৎকৃত সমস্ত টাকা দ্রুত ফেরতের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা। অন্যথায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।