কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ১ নং কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও উদীয়মান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জি এম রবিউল্যাহ বাহারকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মরহুম শমশের আলী গাজীর ছয় সন্তানের মধ্যমণি (তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তৃতীয়) রবিউল্যাহ বাহার ছাত্রজীবন থেকেই রাজপথের রাজনীতি ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ।

জি এম রবিউল্যাহ বাহারের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় একদম তৃণমূল থেকে। ছাত্র রাজনীতির শুরুতে তিনি নিজ এলাকা কালিকাপুরের ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের কারণে পরবর্তীতে তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

ছাত্রদলের সফল মেয়াদ শেষে তিনি যুবদলের নেতৃত্বে আসেন এবং কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে বলিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে বর্তমানে তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী ও শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।

বিরোধী রাজনৈতিক দর্শনের সাথে যুক্ত থাকার কারণে রবিউল্যাহ বাহারকে নজিরবিহীন রাজপথের সংগ্রাম ও আইনি নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয় মোট ২১টি মামলা। বারবার জেল-জুলুম ও দীর্ঘ আইনি লড়াই মোকাবেলা করে রাজনীতিতে টিকে থেকে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভিজ্ঞ ও ঝানু রাজনীতিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

এই রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কেবল তাঁর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়েছে পুরো পরিবারের ওপর। বিএনপি করার কারণে তাঁর দুই চাচার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের ১০ জন চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে ৬ জনকেই মামলা ও আইনি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এত বড় পারিবারিক ক্ষতি ও প্রশাসনিক চাপের পরেও রবিউল্যাহ বাহার বা তাঁর পরিবার দলের নীতি ও আদর্শ থেকে পিছপা হননি।

আইনি চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও এলাকা ছেড়ে যাননি রবিউল্যাহ বাহার। কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তিনি সামাজিক সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বিশেষ করে এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে বাঁচাতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছেন এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক সামাজিক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।

পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট মেরামতসহ স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার সার্বিক ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায়ও তাঁর ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসবে তিনি নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক কাজ করেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ নং কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে রবিউল্যাহ বাহারকে নিয়ে প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অভিজ্ঞ ও জনগণের সুখ-দুঃখের সাথী রবিউল্যাহ বাহার নির্বাচিত হলে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থমকে থাকা কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।

সম্প্রতি কালিকাপুরে রবিউল্যাহ বাহারের নিজ বাসভবন সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে ৯টি ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে এক বৃহৎ কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মাহমুদ ছোট্টু ও শাহিন মাহমুদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে স্থানীয় শিক্ষাবিদ, যুবদল, ছাত্রদল ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নে রবিউল্যাহ বাহারের নেতৃত্বকেই সময়োপযোগী বলে মত ব্যক্ত করেন।

আইনি ঝঞ্ঝাট ও পারিবারিক আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর জি এম রবিউল্যাহ বাহার এখন কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন