কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের গড়ুইমহল গ্রামের শেখ পাড়ায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদ ও পরবর্তীতে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গর্ভবতী নারীকে লাঞ্ছনা এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গড়ুইমহল শেখপাড়া এলাকায় রতনপুর তারকনাথ বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ সাব্বির (পিতা: মোঃ হায়দার আলী)-কে একই গ্রামের হাফিজুর রহমান নামের এক যুবক চড়-থাপ্পড় মারে। ঘটনার সময় সাব্বিরের সহপাঠী ও স্থানীয় শেখ সাদী, খালিদ হাসান এবং মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিল। এ নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জের ধরে হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) আবেদন করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন ঘটনাস্থলে তদন্তে যান।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তে গিয়ে এসআই মতিন স্থানীয় শেখ সোহেলের বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় সোহেলের স্ত্রী সালমা খাতুন (যিনি দুই সন্তানের জননী এবং বর্তমানে আসন্ন সন্তান প্রসবা/গর্ভবতী) গালিগালাজের প্রতিবাদ করে বলেন, আপনি পুলিশ হয়ে এভাবে অকথ্য ভাষায় কথা বলছেন কেন? এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই মতিন তার গালে চড় মারতে উদ্যত হন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে এর প্রতিবাদ জানালে তিনি ক্ষান্ত হন।
ভুক্তভোগী সালমা খাতুন আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, “আমার দ্রুতই ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে এসেছে। এসআই মতিনের এমন রূঢ় ও আক্রমণাত্মক ব্যবহারে আমি মারাত্মকভাবে ভয় পেয়েছি এবং মানসিক চাপে ভুগছি।
সালমা খাতুনের স্বামী ও রতনপুর ইউনিয়ন পুলিশ কমিটির সেক্রেটারি শেখ সোহেল বলেন, এসআই মতিন আমাকে গাঁজার মামলা দিয়ে ফাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আমি জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম বা ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়ায় তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মিথ্যা মামলার ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
ঘটনার বিষয়ে ১১ নম্বর রতনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল গফ্ফার জানান, “আমরা পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে বিষয়টি শান্তভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা না শুনে উল্টো নানা ধরণের মামলার ভয় দেখান, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন বলেন, রতনপুরের গড়ুইমহলের হাফিজুর রহমানের একটি জিডি আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি সরেজমিনে তদন্তে গিয়েছিলাম। সেখানে গেলে প্রতিপক্ষরা আমাকে বিপাকে ফেলার জন্য বৈষম্যবিরোধী বা জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গ তুলে ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নাজুকতা উপলব্ধি করে সেখান থেকে চলে আসি। গর্ভবতী নারীকে লাঞ্ছনা ও হুমকির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পুলিশের লাঞ্ছনা করার চেষ্টা ও স্থানীয়দের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।