বিশেষ প্রতিনিধি, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দীর্ঘ ৫০ বছরের ভোগদখলীয় পৈতৃক জমি জবরদখলের অপচেষ্টা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের টোনা মৌজায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রনজিৎ মিস্ত্রি। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—একই এলাকার মৃত সুপদ মিস্ত্রীর ছেলে নিতাই মিস্ত্রী (৬৫) ও কানাই মিস্ত্রী (৬২), মৃত লক্ষ্মীপদ মিস্ত্রীর ছেলে সুকুমার মিস্ত্রী (২৯), নিতাই মিস্ত্রীর ছেলে শংকর মিস্ত্রী (২৭) এবং কানাই মিস্ত্রীর ছেলে গোপাল মিস্ত্রী (৩৪)।
সরেজমিন ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের টোনা মৌজায় অবস্থিত দুই শতক জমি রনজিৎ মিস্ত্রির পৈতৃক সম্পত্তি (যার জে.এল. নম্বর ২১৩, খতিয়ান নম্বর ১৩২, সাবেক দাগ নম্বর ১৮৩ এবং হাল দাগ নম্বর ২৭৪)। রনজিৎ মিস্ত্রির দাবি, তাঁর পরিবার প্রায় ৫০ বছর ধরে উক্ত জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ অক্টোবর (২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামাদিসহ জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং জোরপূর্বক সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা চালান। এ সময় রনজিৎ মিস্ত্রি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রনজিৎ মিস্ত্রি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এর পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী রনজিৎ মিস্ত্রি জানান, ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের আইনগত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন