মোঃ ইশারাত আলী :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আমিরুল ইসলাম খোকন মোল্লার গণসংযোগ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। তাকে দেখতে এবং তার পেছনে ছুটতে দেখা গেছে সব দল ও মতের মানুষকে, যা দেখে অনেকেই তাকে রূপকথার সেই হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার সঙ্গে তুলনা করছেন। যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই এই প্রার্থীর।
প্রায় ১৭ দিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পর থেকে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চষে বেড়াচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন।
হোসেনপুর গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুস ছাত্তার মোল্লা ও আনোয়ারা খাতুনের ছোট ছেলে খোকন মোল্লা ২০০৮ সাল থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি প্রতিদিন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় যাচ্ছেন, তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন।
প্রচারণার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করছেন খোকন মোল্লা। ইতিমধ্যে তিনি নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন মসজিদে রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছেন। বেশ কয়েকজন কর্মহীন মানুষকে জীবিকা নির্বাহের জন্য ভ্যান বিতরণ করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে নিজস্ব উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও করেছেন।
শিশু-কিশোরদের মাঝে ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠানে খোকন মোল্লা বলেন, “এলাকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো ভালো নেই। কৃষ্ণনগরের অনেক রাস্তায় পানি জমে থাকে এবং কবরস্থানও পানিতে ডুবে যায়। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই।” কৃষ্ণনগরকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চাই।
এলাকার বেকারত্ব দূরীকরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এলাকার অনেক মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই। হিন্দু-মুসলিম সবাইকে নিয়ে ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করতে চাই এবং সাধারণ মানুষের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।”
নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। ভোটারদের উদ্দেশে খোকন মোল্লা বলেন, “ভোটাররা আমার পরিবার সম্পর্কে জানেন এবং আমাকে চেনেন। তাঁরা সবদিক বিবেচনা ও খোঁজখবর নিয়েই ভোট দেবেন। নির্বাচনে জয়ী হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি মডেল ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ে তুলব।”
এদিকে শিশু-কিশোরদের হাতে ফুটবল তুলে দেওয়ার এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব মহলে নির্বাচনী আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। প্রার্থীর এমন জনসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ফলে কৃষ্ণনগরে নির্বাচনী হাওয়া দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মন জয় করে কার পরিকল্পনা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তার উত্তর মিলবে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলেই।