অসুস্থ গরু জবাই, বাইরে থেকে মাংস এনে বিক্রি!
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি এবং হোগলা, কাশিমাড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাংস এনে বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপদ মাংসের দাবিতে এবার রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা বাজারে ‘ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মাহমুদ ছোট্ট, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ গাইন, ইউনিয়ন জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল সাতার আজাদী, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন, জামায়াত নেতা রেজাউল ইসলাম, আস ফারুকসহ স্থানীয়রা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বালিয়াডাঙ্গা বাজারে স্থানীয়ভাবে জবাই করা পশুর মাংসের পাশাপাশি হোগলা, কাশিমাড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাংস এনে বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, পশু জবাইয়ের আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অসুস্থ পশুর মাংস বাজারজাত করা হলে সাধারণ মানুষের জন্য তা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু জবাই বন্ধ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত এবং বাজারে বিক্রি হওয়া মাংসের উৎস যাচাইয়ের দাবি জানান।
তারা আরও দাবি করেন, বাজার কমিটি কিংবা স্থানীয় পরিষদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও তদারকিতে পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বাইরে থেকে মাংস এনে বিক্রির ক্ষেত্রে উৎস, পশু জবাইয়ের স্থান এবং স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, মাংস মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য। তাই মাংসের মান ও পশু জবাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাজারে নিরাপদ মাংস নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান চান তারা।