কালিগঞ্জে ৬৫ শতক জমি নিয়ে উত্তেজনা, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে আদালতের আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৬৫ শতক রেকর্ডীয় জমির দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধান রোপণে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদার রবিউল ইসলাম গাজী। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় সংঘর্ষসহ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর গ্রামের আব্দুল হোসেন গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম গাজী ক্রয়সূত্রে বি.আর.এস. ৮৬৫ ও ৮৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৪২৩ নম্বর দাগে ৬৫ শতক জমি ২০০২ সাল থেকে ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তাঁর দখলে রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
তবে জমিটি নিয়ে একই গ্রামের মৃত দবির উদ্দিন গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তার গাজীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। রবিউল ইসলামের অভিযোগ, কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই আব্দুস সাত্তার গাজী দলবদ্ধ লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে এসে ধান রোপণে বাধা দেন। এ সময় তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম গাজী সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি-২১০৬/২৫ নম্বর মোকদ্দমা দায়ের করেন। মামলার তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলাটি ১৪৫ ধারার কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত হয়।
পরবর্তীতে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলাটি নিষ্পত্তি করে আদালত আদেশ প্রদান করেন বলে দাবি করেছেন রবিউল ইসলাম। ওই আদেশের সার্টিফায়েড কপি পরবর্তীতে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
রবিউল ইসলামের দাবি, আদালতের আদেশে তাঁর শান্তিপূর্ণ দখল বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু আদালতের আদেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বাধার অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আদালতের আদেশের পরও মাঠপর্যায়ে সেটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে কেন?
স্থানীয় ডাঃ গোলাম মোস্তফার ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের হলেও আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু আদালতের আদেশের পরও যদি কোনো পক্ষ জমিতে গিয়ে অন্য পক্ষের চাষাবাদে বাধা দেয়, তাহলে তা নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
গত শুক্রবার সকালে কৃষ্ণনগর মৌজায় তফসিলভুক্ত ওই জমিতে ধান রোপণের সময় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে পুরোনো বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম গাজী বলেন, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে জমিতে চাষাবাদ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সাত্তার গাজী বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে আমিও জমি পাব।” তবে আদালতের আদেশের পরও ধান রোপণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয়রা বলছেন, জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে গড়ানোর পরও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই আদালতের আদেশের নথি পর্যালোচনা করে প্রকৃত দখল পরিস্থিতি নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রবিউল ইসলাম গাজী।