সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশের জারি করা নোটিশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা এবং সেখানে অস্থায়ী ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির সীমানার ঢালাই পিলার তুলে ফেলা, ঘেরাবেড়া ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জমির মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মুকুন্দ মধুসূদনপুর গ্রামের মৃত শাকের আলী সানার ছেলে মো. আব্দুস ছালাম কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ থানার কুশুলিয়া মৌজায় অবস্থিত তপশিলে বর্ণিত জমিটি অভিযোগকারীর খরিদা এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় পিটিশন মামলা নং-১০৭২/২৬ (কালিঃ) দায়ের করেন।

অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশনার পর কালিগঞ্জ থানা পুলিশ বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় নোটিশ জারি করে। কিন্তু ওই নির্দেশনা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ কয়েকদিন ধরে জমির ঘেরাবেড়া ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে পশ্চিম কালিকাপুর গ্রামের মৃত আছের আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হাই মোড়ল, তার স্ত্রী মোছা. রুমিয়া খাতুনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিটি নিজেদের দাবি করে সীমানায় স্থাপিত ঢালাই পিলার তুলে ফেলেন এবং ঘেরাবেড়া ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সীমানায় স্থাপিত ১৬টি ঢালাই পিলার, যার আনুমানিক মূল্য ৮ হাজার টাকা, এবং বেড়ায় ব্যবহৃত জিআই তার, যার মূল্য আনুমানিক আরও ৮ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি গভীর রাতে হওয়ায় এবং অভিযুক্তদের কাছে দেশীয় অস্ত্র থাকায় স্থানীয় কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।

পরদিন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আব্দুস ছালাম অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুল হাই মোড়ল ও তার স্ত্রী মোছা. রুমিয়া খাতুনকে অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে। তাদের বাড়ি পশ্চিম কালিকাপুর গ্রামে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হাই মোড়লের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। তবে অস্থায়ী ঘর নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। ভাঙচুর ও পিলার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, “অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের জারি করা নোটিশ উভয় পক্ষকে দেওয়া হয়েছে।” এখন অভিযোগের তদন্তে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমিতে প্রবেশ, ভাঙচুর, মালামাল নিয়ে যাওয়া ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।