সাতক্ষীরার সাংবাদিকতা জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক জি. এম. নূর ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তার প্রয়াণে সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহল ও সুধী সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পঞ্চাশের দশকে শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি জীবন সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ছোটখাটো ব্যবসা দিয়ে জীবন শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে পত্রিকার এজেন্সি নিয়ে ‘ইসলাম ট্রেডার্স’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক মোড় ঘুরে যায়। সংবাদপত্র বিক্রির সুবাদে খুলনার দৈনিক জন্মভূমির প্রয়াত সম্পাদক হুমায়ূন কবির বালুর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং তিনি দৈনিক জন্মভূমির সাতক্ষীরা ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পান। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবন।
পরবর্তীতে নিজের একটি দৈনিকের ডিক্লারেশন নিয়ে একমাত্র কন্যা নওশিন জাহান দৃষ্টির নামের সঙ্গে মিলিয়ে পত্রিকার নাম রাখেন ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’। তার সম্পাদনায় পত্রিকাটি জেলা পর্যায়ে সার্কুলেশনে বাংলাদেশের শীর্ষে উঠে আসে, যা তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী সংসদেও প্রকাশ করেছিলেন। বহুল প্রচারিত এই পত্রিকার সুবাদে তিনি জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি জেলা ফটোজানালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, জেলা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং শহরের রসুলপুরের ‘মসজিদে কুবা’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া একমাত্র কন্যার নামে ‘দৃষ্টি ড্রিংকিং ওয়াটার’সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তার দুই ছেলে আদম শফিউল্লাহ ও ওমর ফারুক পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ইতিপূর্বে তার সহধর্মিণী আনোয়ারা খাতুন প্রয়াত হন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিসজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি শহরের ডিজিটাল হাসপাতালে জটিল অপারেশন হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রথমে ঢাকার বারডেম হাসপাতাল, পরবর্তীতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষ ঢাকার নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স তার নিজ বাসভবনে এসে পৌঁছায়। আজ বাদ জোহর শহরের সিটি কলেজ সংলগ্ন মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে বাসভবনসংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।