স্বজনের মৃত্যুতে শোক জানাতে গিয়েছিল পরিবারটি। কিন্তু সেই শোকের সফরই পরিণত হলো আরেকটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে। বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ছয় বছরের শিশু মোস্তাকিম। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার মা মুসলিমা খাতুন। দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস তার স্ত্রী মুসলিমা খাতুন, ছেলে মোস্তাকিম ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে একটি মরার বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে চৌমুহনী-সরদারপাড়া সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে, ২ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল করিমের বাড়ির পাশে দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে শিশু মোস্তাকিম ও তার মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে নিভে যায় ছয় বছরের নিষ্পাপ শিশুটির জীবনপ্রদীপ। আহত মুসলিমা খাতুন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশু মোস্তাকিমের মৃত্যুতে কালিকাপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের ভাষ্য, চৌমুহনী-সরদারপাড়া সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর নজরদারি ও গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয় পথচারীদের।

এ ঘটনার পর এলাকাবাসী সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, আর কোনো পরিবার যেন এভাবে পথে সন্তান হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াতে না হয়।