নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

ব্যক্তিগত ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।

বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিকে সামনে এনে তিনি তার পাঁচ বছরের মেয়াদের মাঝপথেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং অটোনমিক নিউরোপ্যাথি-র মতো শারীরিক জটিলতার কারণে তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ ও ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার এই পদত্যাগের ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।