নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রুট ঈদগাহ মোড় থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত। এলাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন কর্তৃক সরকারি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—এই জনবহুল সড়কে অবিলম্বে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। ঐতিহ্যবাহী কালিগঞ্জ সরকারী কলেজ, কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজ, কালিগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা, ক্লিনিকসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে সবসময় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকার কথা থাকলেও এই রুটটি এখন কিছু অসাধু ও বখাটেদের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্কুল-কলেজ ছুটির নির্দিষ্ট সময়ে কিছু বখাটে যুবকের বেপরোয়া আড্ডা এবং ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের সময় কটূক্তি বা হয়রানির ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পরিবার এর প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। এর পাশাপাশি, সন্ধ্যার পর এই রুটে বহিরাগত মাদকসেবীদের অবাধ আনাগোনা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোন এলাকা থেকে কোন বাড়িতে বহিরাগতরা এসে এসব অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে।
রাত নামলেই এই রুটের বিভিন্ন পয়েন্টে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেক যুবতীরা বকাটেদের সাথে মটর সাইকেল যোগে ঘুর ঘুর করতে থাকে। এসময় ব্যবসায়ীদের মনে আতঙ্ক তৈরী হয়। তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকেন স্থানীয়রা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ব্যবসায়ীরাও থাকেন চরম আতঙ্কে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, অপরাধ দমনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের বিকল্প নেই। প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগী হয়ে ঈদগাহ মোড়, মোসলেমের হাট, ফুলতলা মোড় ও কলেজ মোড়সহ মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে উচ্চ রেজুলেশনের নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করুক-এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। স্থানীয়দের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে উচ্চ রেজুলেশনের সিসি ক্যামেরা স্থাপন। কালিগঞ্জ থানা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি কার্যকর মনিটরিং সেল গঠন। স্কুল-কলেজ ছুটির সময়ে এবং সন্ধ্যার পর নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ দমনে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ।
জনগণের জানমাল রক্ষা এবং কালিগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।