বুধবার আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হবে ইংল্যান্ডকে। অন্যদিকে ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।
পরাজয়ের পর সাংবাদিকদের টুখেল বলেন, ‘আমাদের কিংবা ফ্রান্সের কোনো দলের খেলোয়াড়রাই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। তারা সবাই ফাইনাল খেলতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। সবাই বিশ্বকাপ জিততেই খেলতে নামে, কিন্তু বাস্তবতা অন্যকিছু। ফ্রান্সের তুলনায় আমরা এক দিন কম বিশ্রাম পেয়েছি, তবু আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে ম্যাচটি খেলব।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সমালোচনার মুখে পড়লেও টুখেল জোর দিয়ে বলেছেন, শেষ চারে ওঠাই ইংল্যান্ডের জন্য একটি বড় সাফল্য। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা এখনও শেষ না হলেও চেলসির সাবেক এই কোচ মনে করিয়ে দেন, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে অনেক ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী দলই তাদের মতো এতদূর যেতে পারেনি।
পুরো টুর্নামেন্ট মূল্যায়ন করতে গিয়ে টুখেল বলেন, ‘আরেকটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে আমাদের চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। সেমিফাইনালে ওঠাটাই একটি অর্জন। অনেক শক্তিশালী দলই সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে। এটি অবশ্যই একটি সাফল্য, কিন্তু এই মুহূর্তে কেউই সেটা শুনতে চায় না-আমিও না। কারণ নিজেদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন টুখেল। ওয়েন রুনিসহ অনেকেই মনে করেন, রক্ষণাত্মক এই কৌশলই আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়। তবে নিজের সিদ্ধান্ত এবং ইংল্যান্ড ফুটবল সংস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে টুখেল অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
কৌশলগত সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে টুখেল বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। দল সবটাই দিয়েছে এবং আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকারই কথা ছিল আমাদের। পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি সম্ভবত আমাদের অন্যতম সেরা, হয়তো সবচেয়ে ভালো ম্যাচ ছিল। দল দুর্দান্ত খেলেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফল নিজেদের পক্ষে আনতে পারিনি।’
পাশাপাশি টুখেল স্পষ্ট করে দেন, পদত্যাগের কোনো ইচ্ছা তার নেই। তার লক্ষ্য এখন ২০২৮ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ।