মোঃ ইশারাত আলী : 

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম অস্থিরতা, শিক্ষক বদলি নিয়ে বিতর্ক এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবীরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা-০৪ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই প্রশাসনিক রদবদল নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে, কলেজের শিক্ষা পরিবেশ নষ্ট করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে দক্ষ শিক্ষকদের কৌশলে অন্যত্র বদলি করানোর অভিযোগ ছিল সবচেয়ে গুরুতর। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত করে শিক্ষকদের হেনস্থা করা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের কারণে কলেজটি ক্রমাগত সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবক মহলের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল সাম্প্রতিক সময়ে, যেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও উঠে এসেছিল।

উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই সরকারি প্রজ্ঞাপনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও চিফ ইনস্ট্রাক্টর (অটো) মো. হুমায়ুন কবীরকে বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে চিফ ইনস্ট্রাক্টর (অটো) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ জনাব নিজাম উদ্দিনকে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক এই আদেশে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বদলি হওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণকে আগামী ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে দায়িত্ব হস্তান্তর বা অবমুক্ত হতে হবে। যদি কেউ এই সময়ের মধ্যে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না নেন, তবে ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখের অপরাহ্ণে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ বলে গণ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

অধ্যক্ষের অপসারণের সংবাদে কালিগঞ্জের সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা কাটিয়ে কলেজের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই নতুন অধ্যক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, নতুন অধ্যক্ষ যোগদানের পর পূর্বের সকল অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। এখন দেখার বিষয়, ২০ জুলাইয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কতটুকু স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয় এবং কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রশাসনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলা কত দ্রুত ফিরে আসে।