নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে :

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বসন্তপুর খাদ্য গুদামে নতুন বস্তা সরবরাহের আড়ালে চলছে পুরনো ও নিম্নমানের বস্তার এক বিশাল কারসাজি। অসাধু ঠিকাদার ও খাদ্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি কোষাগার থেকে নতুন বস্তার নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আর এই জালিয়াতির ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা। ৭০৪ টন ধান সংগ্রহের বিপরীতে ১১ হাজার ৭৭৪টি বস্তার চাহিদার প্রায় অর্ধেকই পুরনো-এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সরকারি সম্পদ ও জননিরাপত্তা নিয়ে এই ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতির অশুভ খেলায় কার হাত কতটুকু লম্বা?

খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী নতুন বস্তার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও, বাস্তবে ঠিকাদাররা সরবরাহ করছে নিম্নমানের পুরনো বস্তা। গুদাম ব্যবস্থাপনার ভাষ্যমতে, হাজার হাজার বস্তা একসঙ্গে পরীক্ষা করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হওয়ায় মাত্র ১০-১৫ শতাংশ নমুনা দেখে বাকিগুলো গ্রহণ করা হয়। অসাধু ঠিকাদাররা মূলত এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই চালানের ভেতরে পুরনো বস্তা ঢুকিয়ে দিচ্ছে

কালিগঞ্জের খাদ্য গুদামে বিপুল পরিমাণ পুরনো বস্তা শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে-বারবার কেন পুরনো বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে? ঠিকাদারদের সাথে গুদাম কর্মকর্তাদের গোপন সমঝোতা বা ‘ম্যানেজ’ হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ বস্তা ‘রিপ্লেস’ করার কথা থাকলেও, যে প্রক্রিয়ায় বস্তা গ্রহণ করা হচ্ছে তাতে সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে

জননিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ নিয়ে এই ধরনের অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বস্তা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।