মোঃ ইশারাত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকে: 

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় রাতে পুলিশ পরিচয়ে তিন যুবকের ওপর অকথ্য গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২৮ জুন ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার পরে ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের মোড়ে বিএনপি সভাপতি গোলাম মোস্তফার দোকানের পাশে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

মোঃ ফেরদাউস বয়স ২০ পিতা মোঃ ফরিদ গাজী, মোঃ তামিম হোসেন বয়স ১৮ পিতা মোঃ আশরাফুল হোসেন মোঃ শরিফুল ইসলাম বয়স ১৯ পিতা মোঃ মোস্তফা কারিকর তিনবন্ধু কায়িক পরিশ্রম করেন। ঘটনার সময় তারা তিনজন ওই স্থানে বসে স্থানীয় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি শেখ গোলাম মোস্তফার দোকানের পাশে বসে ফোনে ভিডিও দেখছিলেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে দুই ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের সামনে আসেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা উপস্থিত যুবকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং গালাগালি শুরু করেন। এ সময় তারা উপস্থিত এক যুবককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

তামিম জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত যুবকরা তাদের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলে ওই পুলিশ সদস্যরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা উপস্থিতদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করেন এবং নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা আক্ষেপ করে বলেন, “পুলিশকে আমরা জনগণের বন্ধু হিসেবে জানি। কিন্তু গত রাতে তাদের আচরণ ছিল কোনো রাজনৈতিক দলের দোসর বা সন্ত্রাসীর মতো। পুলিশের পোশাক না থাকায় এবং তাদের উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।”

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি শেখ গোলাম মোস্তফা বলেন ওরা তিনজন শ্রমিক। সারাদিন কায়িক পরিশ্রম করে। সন্ধ্যার পরে আমার দোকানের পাশে বসে ভিডিও দেখে সময় পার করে। ওরা ভালো ছেলে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, রাতের অন্ধকারে এভাবে পরিচয়দানকারী পুলিশ সদস্যরা আসলে কারা এবং তাদের এই আচরণের উদ্দেশ্য কী?

ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।