চৌধুরী রোকছানা, ঠাকুরগাঁও থেকে  : 

সেদিন আমার স্কুলে ৮১ বছর পুর্তি অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটা প্রস্তুতি মুলক মিটিং চলছিল। ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে রওয়ানা দিয়েছি বাবার বাড়ির উদ্দেশ্য। কারণ সেই ৮১ বছর পুর্তি অনুষ্ঠানে আমিও অংশ গ্রহণ করবো তাই। যাওয়ার পথেই আমার স্কুল। হঠাৎ মনে হলো একটু স্কুল থেকে ঘুরেই যাই, কতদিন স্যারদের সাথে দেখা হয়না। সেখানে গিয়ে দেখলাম আমার স্যার রা সহ আরও চেনা অচেনা অনেক মানুষ।

সেখানে ছিলেন ভাই ডক্টর জামাল উদ্দিন মিন্টু (রংপুর মেডিকেলে আইসিইউ প্রধান)। অনেক দিন পর দেখা হওয়ায় ভাই অনেক গল্প বলতে লাগলেন। আমার প্রিয় শিক্ষক কাশেম স্যার যিনি বর্তমানে প্রধান শিক্ষক তিনি আমাকে চা খাওয়া ছাড়া যেতেই দিবেননা। আমারও ভালো লাগছিলো কত বছর পরে স্কুলে যাওয়া এবং সবার সাথে দেখা হওয়া।

অনেক কথার ভীড়ে সবার সামনে ডক্টর জামাল উদ্দিন মিন্টু ভাই বলে উঠলেন,,,, চৌধুরী পরিবারে অনেক চৌধুরী জন্মেছে এবং জন্মাবে,,,,,বাট রফিকুল চৌধুরী আর একটা হবে না। রফিকুল চৌধুরী আর একটা জন্মাবে না। রফিকুল চৌধুরী একজনই হয়। বিশ্বাস করেন,,, ওইটুকু মুহূর্তে সন্তান হিসেবে আমার বুকটা ফুলে এক পৃথিবী সমান হয়েছিলো। আমার বাবাকে নিয়ে এই একটা গল্পই তো যথেষ্ট।

এমন অনেক হাজারো গল্প আছে আমার বাবাকে নিয়ে গর্ব করার মত আলহামদুলিল্লাহ। এই জগৎ সংসারে ত্যাগী মানুষের কাতারে আমার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাবে। উদার মানুষের কাতারে আমার বাবার নামটা খুঁজে পাওয়া যাবে। এই পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভেজাল মানুষের কাতারে আমার বাবার নামটা লেখা থাকবে। কাউকে নিয়ে কোন অভিযোগ করলে,,, বাবা আজও বলেন,,,ওই আকাশ সমান উদার হও,,,তবে দেখবে পুরো পৃথিবীটাই তোমার।

এই স্বার্থপর দুনিয়ায় নিঃস্বার্থ মানুষ আমার বাবা,,,যিনি সবার কথা সারাজীবন ভাবতে গিয়ে নিজের জন্য কিছুই ভাবেননি। তবুও জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসেও আমার বাবা এক অসীম সুখে বাঁচেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত। কখনো কখনো ভীষণ অবাক হই। আজকে বাবা দিবসে মহান আল্লাহর কাছে আমার সবসময়ই চাওয়া,,,, এমন প্রশান্তি নিয়েই সুস্থতার সাথে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকুক আমার বাবা