সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের আলিপুর হইতে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত চলমান সড়ক উন্নয়ন কাজে প্রয়োজনে অতিরিক্ত জমি বা স্থাপনা উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন প্রদান করেন স্থানীয় প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ আগামী ৮ ও ৯ জুলাই আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে সরকারি খাস জমিতে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এই খবরে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সড়কের পাশে বসবাসকারী ভূমিহীন পরিবারগুলো।

আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেন (মিনু ডাক্তার)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

লিখিত আবেদনে এলাকাবাসী জানান, মহাসড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমকে তারা স্বাগত জানান। কিন্তু সওজ বিভাগের ম্যাপ অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের পুঁজি ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। এছাড়া বাজারের মৎস্য সেড বিলীন হলে এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি, বছরের পর বছর ধরে সড়কের পাশে মাথা গুঁজে থাকা ভূমিহীন পরিবারগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবেদনকারীরা জানান, বর্তমানে রাস্তার কাজ যে পর্যায়ে চলছে, তাতে যতটুকু জমি বাস্তবে প্রয়োজন, তা ব্যবহার করেই উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। তাই অতিরিক্ত অংশ উচ্ছেদ না করে মানবিক ও জনস্বার্থের দিকটি বিবেচনা করার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব এলাকাবাসীর অভিযোগ ও দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি অত্র এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

আপনি কি এই প্রতিবেদনটি কোনো নির্দিষ্ট পত্রিকায় প্রকাশের জন্য বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য আরও কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে চান?