ডেক্স নিউজ :

মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই কঠিন সময়ে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত একটি প্রস্তুতি সবার থাকতে হবে। জ্বালানী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জীবনযাত্রায় আরও কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা জরুরি।

১. নতুন মাসিক বাজেট করুন

জ্বালানি সংকটের সময় পুরোনো বাজেট কার্যকর থাকে না। তাই নতুন মাসিক বাজেট করতে হবে। সেখানে প্রাধান্য দিতে হবে যেসব বিষয়, তা হলো-

ক. পরিবহন, বিদ্যুৎ ও খাদ্যে বাড়তি খরচ ধরুন।

খ. অপ্রয়োজনীয় খাত (বিনোদন, বিলাসী খরচ) কমান।

গ. জরুরি খাত (যেমন খাদ্য, চিকিৎসা ইত্যাদি) অগ্রাধিকার দিন।

২. যাতায়াত খরচ কমানোর কৌশল

জ্বালানির সংকট বা দাম বাড়লে সবার আগে বাড়ে পরিবহন ব্যয়। তাই যা করতে হবে—

ক. ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমান।

খ. গণপরিবহন ব্যবহার করুন।

গ. প্রয়োজন ছাড়া দূরের যাতায়াত এড়িয়ে চলুন।

৩. বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়

জ্বালানিসংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও বাড়ে। তাই বিদ্যুৎ বিল কমাতে যা করতে হবে—

ক. অপ্রয়োজনীয় লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখুন।

খ. এনার্জি সেভিং যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান ইত্যাদি) ব্যবহার করুন।

গ. রান্নায় গ্যাসের অপচয় কমান।

৪. খাবার খরচ নিয়ন্ত্রণ করুন

জ্বালানি তেলের সংকটে খাদ্যদ্রব্যের দামে প্রভাব পড়তে পারে। সে জন্য—

ক. মাসিক বাজার তালিকা করে কেনাকাটা করুন।

খ. স্থানীয় ও মৌসুমি পণ্য কিনুন।

গ. অপচয় কমাতে খাবার সংরক্ষণে গুরুত্ব দিন।

৫. গড়ে তুলুন জরুরি তহবিল

এমন বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন।

ক. প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আলাদা রাখুন।

খ. চিকিৎসা, পড়াশোনা এসব খাতে অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য এই তহবিল ব্যবহার করুন।

৬. ঋণ ও কিস্তি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা

জ্বালানিসংকটে আয়–ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই খরচের লাগাম টেনে ধরতে নানা কৌশল করতে হবে।

ক. নতুন ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলুন।

খ. উচ্চ সুদের ঋণ দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা করুন।

গ. ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার সীমিত করুন।

জ্বালানি তেলের সংকট সরাসরি আপনার মাসিক খরচে চাপ সৃষ্টি করে। তাই আগেভাগে পরিকল্পনা, সাশ্রয়ী জীবনযাপন ও সঞ্চয়ের অভ্যাসই পারে এই চাপ সামাল দিতে।